Monthly Archives: August 2018

আহ্লাদ

করে যদি তাড়া বুনো মোষে

আহ্লাদে থাকিস নে বসে।

_______________

Inspired by Ogden Nash’s “The Panther”

 

অনুপমা – ফোনুগল্প (অণুগল্প ২)

-হ্যালো …
-হ্যাঁ, বলুন …
-স্যর আপনি তো আকোয়া গার্ডের জিনিস ব্যবহার করেন।
কণ্ঠস্বর বলছে মেয়েটার বয়স খুব বেশি হলে পঁচিশ। কেমন দেখতে কে জানে।ছিপছিপে লম্বা গড়ন? নাকি বেঁটে মোটা, গোলগাল।
-হ্যাঁ করি।
-আপনি কি অমুক তমুকগুলো ব্যবহার করছেন?
-ঠিক বুঝতে পারলাম না। আরেকবার বলবেন? কী জিনিসের কথা বলছেন? আমি আপনাদের ভ্যাক্যুওম ক্লিনার ব্যবহার করি, ওয়াটার পিউরিফায়ার ব্যবহার করি, একটা এয়ার পিউরিফায়ার না কী যেন কিনিয়েছিলেন, সেটাও ব্যবহার করতাম। এখন অনেকদিন করিনি। তাই আর তো কিছু কেনার নেই।
-না, না। ওগুলোর কথা বলছি না।
তার গলায় এবার স্পষ্ট উৎকণ্ঠা।
-আমি অন্য জিনিসের কথা বলছি।
-কী জিনিস?
-সিসি-টিভি আছে কি আপনার? একটা অ্যাপয়েন্টমেন্ট করে গিয়ে আপনাকে ডেমন্সট্রেশন দিয়ে আসতে পারি।
-না, না।
এবার উৎকণ্ঠা আমার কণ্ঠস্বরে।
-আমি সিসি-টিভি দিয়ে কাকে দেখব? আমার মিসেস্‌ টিভি সিরিয়াল দেখেন, আর আমি অন্য ঘরে বসে দুশ্চিন্তা করি। আমাদের দুজনের কেউই কাউকে দেখতে পাই না। মানে চাই না। সিসি-টিভি দিয়ে নতুন কী দেখব?
-স্যর সিকিওরিটির জন্য এগুলো কাজে লাগে। আপনি একটা দিন দিলে আমাদের ইঞ্জিনিয়র গিয়ে দেখিয়ে দেবে।
পঁচিশ বছরের মেয়েটা নিজে আসবে না। কালো ব্যাগ কাঁধে ইঞ্জিনিয়র পাঠাবে।
-ও, আপনি নিজে আসবেন না? তাহলে তো …
আর কিছু বললাম না।
-না স্যর, ইঞ্জিনিয়র যাবে। সব বুঝিয়ে দেবে। এটা রাখা খুব জরুরি। আপনি একবার ট্রাই করে দেখুন।
-আচ্ছা আপনি কেন বুঝছেন না যে আমার কাউকে দেখার নেই। আর এমন কোনও লোক নেই যে আমাকে দেখতে চায়! তবে হ্যাঁ, একটা ইঁদুর আমার বাড়িতে কদিন ধরে বাসা বেঁধেছে। হয়তো কাচ্চা বাচ্চাও হয়েছে প্রচুর। ঐ ইঁদুরটাকে কি সিসি-টিভি দিয়ে খুঁজে পাব?
-হ্যাঁ স্যর পাবেন। ইঁদুর, আরশোলা, টিকটিকি সব ধরা পড়বে।
মেয়েটির গলায় উৎসাহ উথলে পড়ছে।
-তারপর?
-কি বললেন স্যর?
-বললাম, তারপর? মানে তারপর কী করব? শোবার ঘরে বসে বসার ঘরের ইঁদুর দেখব? সিসি-টিভি দিয়ে কি ইঁদুর ধরাও যায়? নাকি ইঁদুর দেখলে আপনাদের খবর দিতে হয়?
-স্যর, আপনি একবার ডেমন্সট্রেশনটা দেখুন, তাহলেই সব পরিষ্কার হয়ে যাবে।
-না গো, এখন আমার ঐ জন্তরটার দরকার নেই। দরকার হলে জানাব।
-ও! তাহলে স্যর আমার ফোন নম্বরটা সেভ করে রাখুন। আমাকে ফোন করলে ব্যবস্থা করে দেব। আমার নাম অনুপমা।
-ঠিক আছে, যেদিন দরকার হবে, সেদিন তাই করব। কিন্তু আপনি কি তখনও এই কোম্পানিতেই কাজ করবেন? হয়তো ততদিনে কানপুরে জুতোর দোকানের সেল্‌স গার্ল হয়ে গিয়েছেন।
একটু হাসি। এইটাই শুনতে চাইছিলাম। পঁচিশ বছরের মেয়ের গলার মিষ্টি হাসি। বেঁটে মোটা হলেও, ভারি মিষ্টি।
-না স্যর, আমি এখানেই থাকব। আপনি আমাকে ফোন করলেই সব ব্যবস্থা করে দেব।
এবার আমার হতাশ হাসির পালা। এমন কত ফোন নম্বর সেভ করেছি। নম্বর থেকে যায়, অনুপমারা থাকে না। ঐ পঁচিশ বছর বয়সটা খুব ডেঞ্জারাস। কেটে পড়ে।
-ঠিক আছে। আপনার নম্বর সেভ করে রাখছি। আগে আপনাকে ফোন করব। তারপর আপনাকে না পেলে আকোয়া গার্ডকে ফোন করব।
-হ্যাঁ স্যর, থ্যাঙ্ক্যু।
ইঁদুরটা ফিক ফিক করে হাসছে তো হাসছেই।

***
***
***

ওরা-তারা

এ পাড়ার ওরা
ছিল মুখচোরা
ও পাড়ার তারা
দিত মুখনাড়া।

একদিন উঠে ভোরে
খাঁড়া হাতে ঘোড়া চড়ে
এ পাড়ার ওরা তাড়া
করে গেল ওপাড়া।

তাড়া খেয়ে তারা
ভয়ে ভেবে সারা
যাই কোথা এলে ওরা
শিখিনি যে ওড়া।

______________________________

Style inspired by Ogden Nash.

Forever — Haiku

failed to pat own back …

even once through the whole day …

chance lost forever …

 

 

দুষ্টু দুনিয়া

সরল ও শুদ্ধ —
কি যে দুর্বোধ্য!
___________________
Influenced by Ogden Nash’s “Reflections on a Wicked World”

 

হয়তো (অণুগল্প ১)

বয়স অল্পই হবে। বেশি হলে ভিড়ের মিনি বাসে চড়ে অত সহজে সিট দখল করতে পারত না।

আমার ঠিক পাশেই। ঘুরে তাকিয়ে দেখার প্রবল ইচ্ছে। পারছিনা। সরাসরি পাশ ফিরে কোনও অচেনা মেয়ের দিকে তাকানো কি সভ্যতার কাজ? কেউ কেউ পারে। আমি পারি না।

চোরা দৃষ্টিতে মেয়েদের দিকে চাইলে তারা কি খুশি হয়? হয়তো হয়। কে তাকাচ্ছে তার উপর নির্ভর করে বোধহয়। নিঃসন্দেহে আমি সে লোকটা নই।

জানালার ধারে বসে আছি। সূর্য পশ্চিমে, বিকেল চারটের আভা। পশ্চিমের সূর্যের আলোতে তার মুখও নিশ্চয়ই রাঙিয়ে উঠেছে।

সংযম হারিয়ে আড়চোখে টুক করে তাকালাম। সে উলটো দিকে চেয়ে। শুধু মাথার ঘন কাল চুলের বিনুনি দেখতে পেলাম। পরনে দামী শাড়ি। নীল আকাশে সাদা মেঘ। ঢাকাই? হবেও বা। মিনি বাসে দামী ঢাকাই শাড়ি? নিজের বুদ্ধির কথা ভেবে একটু হতাশই হলাম।

মুখটা সামান্য এদিকে ঘোরালেই আমার প্রশ্নের উত্তর পেয়ে যেতাম। কিন্তু সে নিবিষ্ট মনে অন্য দিকে কী দেখতে মগ্ন কে জানে?

হয়তো সুন্দরী। হয়তো চোখে মুখে বুদ্ধির ছাপ। হয়তো এর খোঁজেই কেটেছে চিরকাল। অজস্র প্রশ্ন। অচেনা মেয়ে, চেনা প্রশ্ন।

বাস এক্সাইড মোড় পার হয়ে পৌঁছে গেল গুরুসদয় রোডে। ভিড় কমে আসছে, নতুন যাত্রী বেশি উঠছে না। এখনই দেখার সুযোগ। মনে হল সকলেই ওকে দেখছে, কেবল আমি বঞ্চিত।

এই থামান!

কর্কশ এক কণ্ঠস্বর। হাঁড়িচাঁচার মত। আমার পাশেই। স্টপেজে না থেমেই বাসটা চলে যাচ্ছিল। জোরে ব্রেক কষে থেমে গেল। আমি প্রায় হুমড়ি খেয়ে উলটে পড়ছিলাম। কণ্ঠস্বর শুনে? নাকি বাসের ব্রেকে টাল সামলাতে না পেরে? বোধহয় দুটোই।

মেয়েটি আরও কী সব বলল কন্ডাক্টরকে। শাসনের ভঙ্গিতে। বচসা হল।

আগে বলবেন তো!

আগেই তো বলেছিলাম, আপনারা কানে শোনেন কিছু? আবার হাঁড়িচাঁচা। আর তাকাতে অসুবিধা নেই। কিন্তু সে তখনও আমার দিকে পিছন ফিরে।

বাস থেকে নেমে গেল। একটু চেষ্টা করলে এবার তাকে দেখতে পারতাম ঠিকই। দেখলাম না।

হাঁড়িচাঁচাকে।

পরনে দামী শাড়ি। হয়তো।

হয়তো সুন্দরী।

হস্ত-পা

ওগুলো কী হাত তব, নাকি সবই পা?
কহ না গো অকপটে - হে হস্ত-পা! 
ভাবি আমি বসে রোজই বিস্ময় ঘোরে 
হলে আমি তুমি আমি কব মোরা মোরে। 

____________________
Inspired by Ogden Nash’s The Octopus.

 

হাড়গিলে

সুখে করে সংসার হাড়গিলে
উচ্চ বৃক্ষ চুড়ে দোঁহে মিলে।
ডিম পাড়ে কোথা তারা?
ভেবে আমি দিশাহারা
থেকে থেকে চমকায় মম পিলে।

***
Inspired by Ogden Nash — The Ostrich

 

ডাক

ডাক

© ছবি – অমল সান্যাল


                     ডাক দেয়, দেয় ডাক
                     হরকরা, নয় কাক।

শরবতও

মিছরির শরবতও
ভুঁড়ি করে পর্বতো।
___

Inspired by Ogden Nash–