Monthly Archives: October 2018

সুচিত্রা

বাষ্প রে বাষ্পই

সব দুষ্প্রাস্-পই।

(Influenced by Ogden Nash.)

 

ঠিক আছে – ফোনুগল্প (অনুকল্প-৪)

১২১ টিপে মানব বাবু কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে এয়ারটেলের গান শুনলেন। তারপর ওপার থেকে ভেসে এলো এক নারীকণ্ঠ। ইংরেজিতে জানাল – যদি মানব বাবু ইংরেজিই চালিয়ে যেতে চান তবে যেন ১ নং বোতাম টেপেন। বাংলার জন্য ২, হিন্দীর জন্য ৩ ইত্যাদি। প্রায় কিছু না ভেবেই মানব বাবু ২ টিপে দিলেন। তারপর আবারও কিছুক্ষণ সঙ্গীত বিরতি। শেষে নতুন একটি নারীকণ্ঠ। বিশুদ্ধ হিন্দীতে বলল – এয়ারটেলকে ফোন করার জন্য ধন্যবাদ। কী ভাবে সাহায্য করতে পারি?

মানব বাবু হিন্দীতেই জবাব দিলেন। বললেন – ম্যাডাম আমি তো বাংলা শুনতে চেয়েছিলাম। মহিলা তৎক্ষণাৎ বললেন — অতীব দুঃখিত, এখুনি আপনাকে বাংলা ধরিয়ে দিচ্ছি। তারপর আবার সংগীত মুখর বিরতি। মিনিট কয়েক পরে এক পুরুষকণ্ঠ ভেসে এল। সেই একই কথা। কেমন করে আপনাকে সাহায্য করে এয়ারটেল ধন্য হতে পারে?

মানব বাবু বললেন – দেখুন আপনারা আমাকে এক অন্য ব্যক্তির বিল পাঠিয়েছেন। এ নম্বর আমার কোনোকালে ছিল না। ৩০ হাজার টাকার বিল আমার হওয়া সম্ভব না।

পুরুষ – দয়া করে আপনার ঠিকানা ও ইমেল আই ডি জানাবেন কি?

মানববাবু – অবশ্যই। অমুক, তমুক …

পুরুষ – অনেক ধন্যবাদ। অনুগ্রহ করে একটু ধরুন। আমাদের সিস্টেম থেকে সব জেনে দিচ্ছি।

মানববাবু ধরে রইলেন। এবার প্রায় মিনিট সাত আট। পুরুষ ফিরে এলো।

পুরুষ – আপনাকে জানাতে চাইব যে … । এটুকু বলার পর পুরুষ কণ্ঠ কী বলল মানব বাবু বুঝলেন না। কেবল শেষ শব্দ দুটো বুঝলেন – ঠিক ক আছে? অতি দ্রুত গতিতে।

মানববাবু বললেন – দেখুন একটু ধীরে না বললে তো বুঝব না। বয়স হয়েছে।

পুরুষ – অবশ্যই আপনাকে সাহায্য করব। তারপর আবার সুপারসনিক গতিবেগে পুরুষ বলল – হিজিবিজিহিজিবিজিহিজিবিজিহিজিবিজি, ঠিক আছে? হিজিবিজিহিজিবিজিহিজিবিজি ঠিক আছে?

মানুববাবু বাধ্য হয়েই বললেন – না স্যর ঠিক নেই। আপনার বক্তব্যের ঐ ঠিক আছে-টুকুই বুঝেছি। বাকি কিছুই বুঝলাম না। এটাও বুঝেছি যে আপনি জানাতে চাইবেন, কিন্তু জানাতে চান কীনা পরিষ্কার হল না। একটু যদি খোলসা করে ঢিমে তালে বলেন বড় সুবিধা হয়।

পুরুষ – অবশ্যই আপনাকে সাহায্য করব। হিজিবিজিহিজিবিজিহিজিবিজি ঠিক আছে? হিজিবিজিহিজিবি ঠিক আছে?

মানববাবু ব্যাকুল কণ্ঠে বললেন – দেখুন আমি ২ টিপেছিলাম। কিন্তু আপনি তো বাংলা বলছেন না।যে ভাষা বলছেন সে তো আমি …

কথা শেষ করতে না দিয়ে পুরুষ আবার বলে উঠল – নিশ্চয়ই, আপনাকে অতি অবশ্য সাহায্য করব। হিজিবিজিহিজিবিজিহিজিবিজি ঠিক আছে?

তারপর আর মানববাবুর বক্তব্য শোনার অপেক্ষা না করে পুরুষ বলল — হিজিবিজিহিজিবিজিবিজি … এয়ারটেলকে ফোন করার জন্য অনেক ধন্যবাদ। আপনার দিনটি শুভ হোক।

ফোন কেটে গেল।

মানববাবু কাঁদ কাঁদ হয়ে বললেন – ঠিক আছে।

***
***

নিশীথে

© ছবি – অমল সান্যাল

 
বেহালাতে রামগতি সাহা
একা কেন কে বা জানে তাহা—
বসে বসে বিছানাতে
হাসে হা হা মাঝরাতে
বেহালাতে হাসে হা হা রামগতি সাহা।

নোবেল

বেচারা অ্যাডাম স্মিথ্

সারাটা জীবন রয়ে গেল আহা

নোবেলেতে বঞ্চিৎ !
_________
Style inspired by Ogden Nash.

 

কান্না


মায়াবতী মান্না
ধরেছেন কান্না
রাশি রাশি রয়েছে তো রান্না–
মায়াবতী মান্না
কাঁদছেন চান না
রান্নার উপরেও বান্না।

সহবাস


হলধর ঘোষ
পুষবে সে মোষ
শয়নকক্ষে তার
এটুকুই আবদার
এছাড়া করে নি দোষ
হলধর ঘোষ!

Who? – Haiku

Suddenly recalled- Slender fingers, decked with rings- Who was their owner?


 

পর্যটক-২


11964.adapt.885.1

দার এস্ সালাম কালই ভোরে আলাম কীবা ঘোরে, কেন ওরে ভেবে নাহি পালাম! নাহি নাহি পালাম তাই ফিরে আলাম ছেড়ে ছুড়ে বহু দূরে দার এস্ সালাম।

 

 

টা টা (অণুগল্প ৩)

সন্ধে হব হব। লোকজন কম। রাস্তাটা ক্রস করতে গিয়ে আঁতকে উঠলাম। খালি গায়ে, ছেঁড়া লুঙ্গি পরনে, এক মুখ খোঁচা খোঁচা সাদা দাড়ি ওয়ালা একটা লোক বাসের ওপাশ থেকে হুঙ্কার দিয়ে বেরিয়ে এল। দেখি থান ইট হাতে আমারই দিকে তাক করছে। জীবনে কখনও এত চমকাই নি।

– অ্যাই! কোথায় যাচ্ছিস? মাথা ফাটিয়ে দেব। এক পাও এগোবি না। লজ্জা করে না? হিন্দু না মুসলমান?

ভয়ে রাস্তা ছেড়ে ফুটপাতে ফিরে এলাম। লোকটাও পিছু পিছু এসে পাশেই দাঁড়াল। ফাঁকা রাস্তা। যেদিকেই তাকাতে যাই লোকটা মারতে আসে। – ওদিকে কোথায় যাচ্ছিস? পাকিস্তান? পুলিশ ডেকে ধরিয়ে দেব। একটা বিড়ি দে।

– বিড়ি কোথায় পাব?

লোকটা আবার থান ইটটা বাগিয়ে এল। আমি ভয়ে ভয়ে পকেট থেকে একটা দশ টাকার নোট বের করে ওকে দিলাম। -দশ টাকায় কী হবে? আরও দে শালা। আড় চোখে থান ইটটা দেখতে দেখতে একটা কুড়ি টাকার নোট দিলাম।

-ধ্যাত্তেরি। পাঁচ শ ছাড়, নইলে মাথার খুলিতে থান ইট ভরে বাড়ি ফিরবি।

– পাঁচ শ…. কোথায় পাব?

লোকটার চোখ দিয়ে আগুন ঠিকরাচ্ছে। কুড়িয়ে বাড়িয়ে তিন শ একাত্তর টাকা বেরোল। জিভে আঙুল ভিজিয়ে দু হাতে ভাল করে গুণে নিল লোকটা। থান ইটটা আমারই হাতে ধরিয়ে দিয়ে। তারপর ধমকে বলল – জামাটা খুলে দে, দেখছিস না খালি গা। যদিও থান ইটটা আমারই হাতে, তবুও কাঁপতে কাঁপতে শার্টটা খুলে ওকে দিলাম।

কিছুক্ষণ আমার দিকে ভুরু কুঁচকে তাকিয়ে থেকে বলল – ঠিক আছে, ওতেই হবে। প্যান্টটা কাল নেব।

তারপর ফিক করে হেসে বলল – ইটটা বরং রেখেই দিন স্যর। যে অবস্বায় আছেন, কাজে লাগতে পারে। নইলে প্যান্টটাও থাকবে না। চলি, টা টা।

***

***

বচন ভাবনা

শুনলাম ক্যাকটাই

সবই নাকি ক্যাকটাস,

তবে কি রে শুচিবাই

রাশি রাশি শুচিবাস?
_____
Inspired by Ogden Nash.