Monthly Archives: January 2019

পটল

মরব এবার মরব রে
তাল গাছেতে চড়ব রে —
বয়েস হল ছিয়াত্তর
কাটলে আমি কীয়াত্তোর?

__________
Written in a Nash moment. Photo from ভুশণ্ডীর মাঠে।

লাইফ – ফোনুগল্প (অণুগল্প ৬)

— হ্যালো! নারীকণ্ঠ, বিরক্তিপূর্ণ।
— হ্যালোও। আমি, একটু ঘাবড়ে।
— আচ্ছা, আপনি কী চান ঠিক করে বলুন তো…
সকালে একবার জিলিপি খেতে ইচ্ছে করেছিল। রোজই করে। এ ছাড়া আর তো কিছু চাই নি। জিলিপির দোকান আজকাল ফোন করে? কে জানে? সুইগির যুগ।
— আজ্ঞে, আজ তো জিলিপি চাই নি।
— কী চ্যাংড়ামো করছেন!
— তা কেন করব? চাই নি, সত্যিই চাই নি। কোনো কিছুই চাই নি।
— চান নি? কিছুই চান নি? বিরক্তি থেকে উষ্মার দিকে।
— না তো … । দুশ্চিন্তায় আমি।
— তাই বুঝি? তবে রোজ এসব করছেন কেন?
মেয়ে পুলিশ না তো? ভাবনায় ঘামতে শুরু করি।
— রোজ কী করছি ম্যাডাম?
— কী করছেন? আবার জিজ্ঞেস করা হচ্ছে?
গা ছমছম করে ওঠে।
— কী, জবাব দিচ্ছেন না কেন?
মনে হল বন্দুকটা আমারই দিকে টিপ করে দাঁড়িয়ে আছে।
— কেমন করে জবাব দেব ম্যাডাম? আপনার কথা তো বুঝতেই পারছি না।
— ন্যাকা তাই না? বুঝতে পারছেন না? রোজ মেসেজ পাঠাচ্ছেন কেন? এই ওয়ান টু দিয়ে শেষ নম্বরে …
— দেখুন মেসেজ তো পাঠাই অনেক। কিন্তু ওয়ান টু নম্বরে কী পাঠালাম মনে করতে পারছি না।
ওপাশে আরও কয়েকটি নারীকণ্ঠ শোনা যাচ্ছে। ফোনের নারীকণ্ঠ অন্যদের বলছে শুনলাম।
— এই দেখ্ তো, জানতে চাইছে কী মেসেজ করেছে।
— হ্যালোওওও … আপনি রোজ মেসেজ করছেন আর বলছেন কী মেসেজ জানেন না!! আরেকটি গলা।
— আজ্ঞে তাইতো বলছি। ভয়ে গলা একটু কাঁপে।
— আপনি কোথা থেকে বলছেন? খুব রেগেছে।
— আমি কোথা থেকে আর বলব ম্যাডাম? আপনার বন্ধুই তো কোথা থেকে বলতে শুরু করলেন। আমি নাকি মেসেজ করি। কী মেসেজ একটু বোঝাবেন …?
— কী মেসেজ? একটাই তো মেসেজ। আপনি লাইফ চান …
— লাইফ চাই? তার মানে কী?
জিলিপি না তাহলে। সন্দেশ, জিলিপি, পান্তুয়া, কিছুই না? হায় হায়।
— রোজ বলছেন লাইফ চান, আর এখন বলছেন মানে জানেন না?
— দেখুন, সত্যিই জানি না। আপনি কি এল আই সি থেকে বলছেন?
— কী? রেগে আগুন, তেলে বেগুন।
— মানে লাইফ ইন্সিওরেন্স কর্পোরেশন থেকে বলছেন?
— আবার বাজে বকছেন?
— আমি লাইফ ইন্সিওরেন্সের কথা বলছি। রাত সাড়ে নটায় এল আই সি তো ফোন করে না। তাছাড়া আমার বয়েস আশি পেরিয়েছে। ও লাইফ আর ইন্সিওর করে কী লাভ? আমার গলায় এবার আত্মবিশ্বাস।
আর ওদিকে যেন একটু যেন অস্বস্তি।
— আপনি লাইফ চেয়ে চেয়ে ওয়ান টু-তে ফোন করছেন আর এখন …
— ম্যাডাম, লাইফ আমাকে চায় না। আমি আর লাইফকে চেয়ে কী করব বলুন? তবে জিলিপি এখনও দিব্যি চাই।
লাইন কেটে গেল। কোনোমতে লাইফ কাটাচ্ছি। না চেয়েই। দেখি কতদিন চলে!

কেষ্টা


কেষ্টার কেসটা
বোঝা গেল শেষটা
কেসটার ক্লেশটা
বোঝে একা কেষ্টা।

© ছবি – অমল সান্যাল

ডেথ সার্টিফিকেট।

শীত্ তুই
মৃত্’তুই।

 

নালিশবুড়ো

palishgram


পালিশগ্রামে করত নালিশ ক্রুদ্ধ সে এক বৃদ্ধ —
বেয়াইনি এই শীত কেন বল করছে না নিষিদ্ধ?
সরকারটার নেই দরকার
দিস নে ওদের ভোট কভু আর
কাঁপতে কাঁপতে নালিশিস্কুলে পালিশগ্রামের বৃদ্ধ।

Deep —Haiku

frozen tears from past-
thawing drowns you in deluge-
freeze them deep, deep, deep …

Winter Warmth – Haiku

yet one more day spent,
basking in your warm brown eyes —
icy cold winter …

পার্সোনালিটি – ফোনুগল্প (অণুগল্প ৫)

আমাকে কেউ ফোন টোন করে না। তাই আমিও করি না। কিন্তু মাসের শেষে ফোনের বিল দিই। কেন কে জানে? বিমর্ষ লাগে। মাঝে মধ্যে অবশ্য ফোন বেজে উঠে হর্ষ জাগায়। আমি উৎসাহে লাফিয়ে উঠি।

–হ্যালোওওও।

অপর দিক থেকে পুরুষ বা নারী কণ্ঠ শোনা যায়।

— কে কানাই ড্রাইভার? কাল আসবি বলে এলি না কেন?

বুঝি এ ফোন আমার নয়। তবু জবাব দিই।

–মিথ্যে কথা বলেছিলাম। তুই বরং চলে আয়।

কণ্ঠস্বর চমকে ওঠে।

–মাল খেয়েছিস নাকি বেটা? সাহস তো কম না। তুই বলছিস!

আমি ফোন রেখে দিই।

আরেক জাতীয় ফোন আসে। নারী কণ্ঠ। আজই এসেছিল। সে আর হ্যালো বলল না।

–মিস্টার দীপংকর? আমি এয়ারটেল থেকে বলছি। আপনার জন্য একটা দারুণ অফার আছে মিস্টার দীপংকর।

এই মিস্টার দীপংকর সম্বোধনটার সঙ্গে আমার পরিচয় নেই। উত্তর ভারতে অনেকে মিস্টার গুপ্তা বলতেন। তাঁরা ভাবতেন ভগবানদাসের মত আমার নাম দীপংকরদাস আর পদবী গুপ্তা। বহু বুঝিয়েও তাদের দাশগুপ্ত ব্যাপারটা বোঝাতে পারি নি। কিন্তু মিস্টার দীপংকরটা নতুন ঠেকল।

–তাই বুঝি? কী অফার, আরেকটা সিম কার্ড?

— না, না, মিস্টার দীপংকর। আপনি আমাদের অনেকদিনের কাস্টোমার, তাই আপনাকে একদম ফ্রি-তে একটা স্পেশাল অফার দেওয়া হচ্ছে।

–তাই? একটু খোলসা করে বলবেন?

–অবশ্যই বুঝিয়ে দেব মিস্টার দীপংকর। এটা থাকলে আপনাকে যে ফোন করবে সে কোনও ক্রিং ক্রিং শুনবে না।

আঁতকে উঠলাম।

–সে কী? কিছু না শুনলে তো মুশকিল হবে। অবশ্য কানাই ড্রাইভারের খোঁজ করলে অন্য কথা।
–কী বললেন মিস্টার দীপংকর? কানাই? আপনি মিস্টার কানাই?

–না না, আমি কানাই না। সে অন্য লোক।

নারী কণ্ঠে খুশি উপচে পড়ে।

–মিস্টার দীপংকর, এই অফার নিলে যিনি আপনাকে ফোন করবেন তিনি শুনবেন “হ্যালো, আমি মিস্টার দীপংকর বলছি”! আর সম্পূর্ণ বিনা মূল্যে এটা আপনি যেকোনো ভাষায় শোনাতে পারবেন। কেবল বছরে একবার মাত্র ৩০০ টাকা দিতে হবে।

বিনা মূল্যের মূল্য ৩০০ টাকা।

তবু একটু ভাবলাম। আইডিয়াটা মন্দ নয়। কানাই ড্রাইভারের হয়ে আমাকে জবাবদিহি করতে হবে না। তবে সে লোকটাকে এত শত কথা বলব কেন? জানতে চাইলাম।

–এমন হলে আমার সুবিধা কী?

–মিস্টার দীপংকর, কলারের কাছে আপনার পার্সোনালিটি দারুণ বেড়ে যাবে।

মেয়েটির গলায় উত্তেজনা।

–সে কী? আমার ফোন এই অদ্ভুত উপায়ে আমার পার্সোনালিটি বাড়িয়ে দেবে?

–হ্যাঁ মিস্টার দীপংকর, যে শুনবে সেই ইম্‌প্রেস্‌ড হবে।

–তাই নাকি? আচ্ছা আপনি নিজে একবার শুনে দেখুন তো। আমি মিস্টার দীপংকর বলছি। আপনি কি ইম্‌প্রেস্‌ড হয়ে গেলেন এটা শুনে?

–না, মানে আমি তো এয়ারটেল থেকে বলছি।

–না? আপনি না বললেন? ইম্‌প্রেস্‌ড হলেন না?

–না। মানে হ্যাঁ, মানে ঐ আর কী! আসলে আমি তো কোম্পানি থেকে বলছি।

–তাই তো জিজ্ঞেস করছি। আপনি ইম্‌প্রেস্‌ড হয়েছেন কি? এটা জানা খুব জরুরি। এয়ারটেল ছাড়া আর কেউই প্রায় আমাকে ফোন করে না। এয়ারটেল নিজেই ইম্‌প্রেস্‌ড না হলে ৩০০ টাকা দেব কেন?

–মিস্টার দীপংকর! এয়ারটেল তো কোম্পানি।

–আর আপনি? আপনি কী? মানুষ না কোম্পানি? আমি জানতে চাই আপনি আমার পার্সোনালিটির ব্যাপারে ইম্‌প্রেস্‌ড হয়েছেন না হন নি। আমি মিস্টার দীপংকর বলছি।

বেচারা মেয়েটা, দু-চারটে পার্টি ধরে দিতে পারলে কমিশন পাবে। একটু কষ্টই হল।

–দেখুন, আমি যাকে বলে বেশ পাঁচু টাইপের একটা লোক। পাঁচুর ঐ পা-টুকুতেই পার্সোনালিটির সঙ্গে মিল। আমার মনে হয় আপনিও আমারই মত একটা লোক। তবে আমার পার্সোনালিটি বিহীন জীবনের আর অল্পই বাকি আছে। আপনাকে কিন্তু এখনও অনেক বছর এয়ারটেলওয়ালাদের দুর্দান্ত সব অফার নিয়ে মিস্টার দীপংকরদের পিছনে ছুটতে হতে পারে। আপনাকে কেউ ফোন টোন করে? আমাকে করে না, আপনার মত ভুল না করলে।

পিলু বারোয়াঁ

বংশী বাদন বলেন — বাঁশিকা
প্রয়োজন কী রে আছে তো নাশিকা
হাঁচির উপরে হাঁচিকা আমার
শোনাবে খেয়াল, ধ্রুপদ, ধামার —
খরচা বাঁচাব, কিনব না আমি বাঁশিকা।
_______________
Inspired by ÉDOUARD — Ogden Nash

শৈত্য ভাবনা


কেউ কি ভেবেছ দেখে কোনোদিনও তোমরা?
পোষ-মাঘে কেন থাকে রুগীগুলো গোমড়া?
হয়তো বা ঠাণ্ডায়
ডাক্তারি ডাণ্ডায়
থাকে না রুগীরা কেউ হোমরা কী চোমরা।