Monthly Archives: April 2019

বোশেখি নৃত্য


কেউ করে ফিসফিস
ভোট দিস ভোট দিস
কেউ করে ফিসফাস
কিছুই করবিনাশ।
কেউ বলে ফাঁসাব
কেউ বলে হাঁচাব
কেউ বলে জনে জনে
নির্বাচনাচাব।
নির্বাচনাচাতে
বুথপাতে মাচাতে
ফন্দ পেতেছে নানা
দেশটাকে বাঁচাতে।

বাতাসপুর

new new bataspur

            

            বাতাসপুরে যায় না বাতাস পাওয়া
            বাতাসপুরের হয়েছে বাতাস হাওয়া 
            হয়তো বাতাস হাওয়ায় চড়ে উড়ে 
            বাতাসপুরেই লুকিয়ে মরে ঘুরে।।

Lear Leer


There was a man who lived in a hospital in Coimbatore
He was at least hundred and ten and an improvisatore
And he recited mournful verses
For all his attending nurses
Till he drowned in her tears, each nurse there was, in Coimbatore.

 

দুশ্চিন্তা

ঢং ঢং ঢং ঢং বারোটা —
যদি না আমারই বাজে,
কার ওটা?

ইশ্‌ক্‌


সেজে গুজে যদি তুমি আস
মৃদু মৃদু হাসি তুমি হাস
লাগে বেশ — তবে আলু থালু
থাকলেও তুমি — বাসি ভালু।

ধুউউশ্‌’শাআআলা — ফোনুগল্প (অণুগল্প ৮)


– হ্যালো!
– হ্যালো! উচ্চগ্রামে।
– হ্যা—লো–ওওও …
– হ্যা—লো—ওওওওও …। আরও উচ্চগ্রামে।
– ধুঃ—শালা। কেটে গেল।
– ক্রিইং ক্রিইং –
– হ্যালোওওও – হ্যাঁ, এতবার তো হ্যালো হ্যালো বললাম – তুই তো শালা জবাবই দিলি না –
– জবাব দিলাম না মানে? আমি তো কতবার বললাম …
– কী বললি? – হ্যালো – হ্যালো – শুনতে পাচ্ছিস? – হ্যাঁ – কী বললি? –
– কী আবার বলব? – হ্যালো হ্যালো বললাম … তুই তো শালা চুপ করে রইলি … তারপর লাইন কেটে দিলি … হ্যালোওওও … শুনতে পাচ্ছিস? … কী বললি? … লাইন কাটিস নি? … হ্যালো হ্যালোওওও …
– ধুঃউউউশ্‌’শালা, আবার কেটে গেল …
– ক্রিইং ক্রিইং –
– হ্যালোওওও – হ্যাঁ হ্যাঁ শুনতে পাচ্ছি বেশ পরিষ্কার এবার – কী? হাবুলের ফোন নাম্বার? হ্যাঁ, আছে তো। দাঁড়া তোকে ওয়াট্’স অ্যাপ করে দিচ্ছি। কেন, ওয়াট্‌’স অ্যাপ করব না কেন? তোদের ইন্টারনেট চলছে না? এস্ এম্‌ এস্‌? কাজ করে না? ও আচ্ছা, দাঁড়া, দাঁড়া, একটু খুঁজে নিয়ে বলছি। … হ্যাঁ পেয়েছি … লিখে নে … ৯৯৪৩ … কী বললি? … আরও জোরে বলব? ঠিক আছে … ৯৯৪ … আরে এর চেয়ে জোরে বলব কী করে? গলায় চিড় ধরবে তো … কেন শুনতে পাচ্ছিস না ভাল করে? তোর কানে গণ্ডগোল হয়েছে … অ্যাঁ … বাসের আওয়াজ? … শোনা যায় না … কী? … বাসের আওয়াজ ছাড়া কিছু শোনা যায় না তোদের পাড়ায়? … ঠিক আছে … তবে নয় রাতে ফোন করব … হ্যালোওওও … ধুউউউশ্‌শালা … আবার কেটে গেল …

রাত এগারোটার পর।

– হ্যালোওও …
– হ্যাঁ বল্‌ — শুনতে পাচ্ছি …
– তাড়াতাড়ি লেখ্‌ … ৯৯ … কী বললি? শুনতে পাচ্ছিস্‌ না? আরে রাত দুপুরে এমন গলা ফাটিয়ে ফোন নম্বর বলতে হলে তো পুলিশ ধরবে … আর কত চেঁচাব? এখনও বাস যাচ্ছে নাকি? যাচ্ছে না … তাহলে তো তুই কালা বলব … কী? কী বললি? কুকুর? কুকু—র? তাড়া করেছে? করে নি? তবে? চেঁচাচ্ছে? দশটা কুকুর? রাস্তার কুকুর? তোর বাড়িতে দশটা রাস্তার কুকুর কী করছে? বাড়িতে না? রাস্তায়? কুকুররা কুকুর দেখলে খেপে যায়? সব তোর বাড়ির সামনে? কর্পোরেশনে খবর দে না, ধরে নিয়ে যাবে। কী বললি? তোকেও ধরে নিয়ে যাবে? নতুন আইন? তাহলে কী করব? ফোন রেখে দেব? কী বললি? কী বললি? … ধুউউউশ্‌’শাআআলা … লাইন কেটে গেল …

খোকা, খুকুর কাছে বিনীত আর্জি।


খুকি হও তুমি, হও তুমি খোকা
সহজ সরল যুক্তি
জানাচ্ছে মোরা দুজনাতে বসে
করি একখানা চুক্তি।
পাটভাঙা ধুতি পাঞ্জাবি পরা
অভ্যর্থিত অতিথি
আমি একজন তোমার এ প্রাসাদে
এমনই আমার প্রতীতি।
তাই বলি মোরে মেঝেতে শুইয়ে
বুকে চেপে বসে গল্প
শোনাতে বললে কানটি মুলব
লাগবে না খুব অল্প।
তব সাথে মোর মতান্তরের
নেই কোনও শুরু নেইকো শেষ
কথা তব যত, খেলা তব যত
জাগায় মনেতে সকলই দ্বেষ!
শোন বাপু মোর সাদা নাগরাতে
লাগাতে দেব না কাল কালি
জুতো পরিহিত চরণ পরেতে
চাপলে শোনাব শত গালি।
মোর সাথে তুমি ভাই বোন সহ
দূরত্ব রেখো একটু প্লিজ
নইলে তোমার বাপের সঙ্গে
ভেঙেই ফেলব বাড়ির লিজ।
ঘুসোঘুসি, চড় থাপ্পড় আর
খেলাধুলো যত বন্য
খেল গে’ বাবার সঙ্গে, সে জেনো
জন্মেছে তারই জন্য।
জননীও তব রয়েছেন পাশে
আহ্লাদে ভরা তাঁরও হৃদয়
তাঁরে মই ভেবে চড় তুমি ছাতে
খুশিতে গাইব তোমারই জয়।
চুক্তি যখন করতেই হল
শেষ ইচ্ছেটা বলেই যাই
ঝাড়ুদার এসে আঁস্তাকুড়েতে
ফেললে তোমারে শান্তি পাই।
একান্ত যদি নাই হয় তাও
ঘাড়খানা তবে ধরে না হয়
মুচড়াই বসে, আগেই যদি না
মুচড়ায় কোনও করুণাময়।
_____________________________

Inspired by Ogden Nash’s To A Small Boy Standing On My Shoes While I Am Wearing Them.