Category Archives: Bengali Compositions

লোকটা (অণুগল্প ১০)

লোকটা গড়গড় করে আমার নেম প্লেটটা পড়ছিল। বেশ উঁচু গলায়।  নাম, আমার পেশার খবর, ঠিকানা। পড়া হয়ে গেলে একটু দাঁড়িয়ে রইল। তারপর হাঁটতে হাঁটতে পাশের বাড়িতে গিয়ে আবার নেম প্লেটের সামনে দাঁড়াল। আমিও রাস্তায় নেমে এসে  তাকে দেখতে লাগলাম। শুনতে পেলাম সেখানেও নেম প্লেট পড়ছে। অনুপম নাগ। বিএ এ, বি এল, অ্যাডভোকেট, কলকাতা হাই কোর্ট। ৩৪/১ এগডালিয়া রোড। আবার বেশ জোরে জোরে। এত ভোরে আমার মত অনুপম বাবুরও কি ঘুম ভাঙাল?

আমিই কথা বললাম। এই যে, শুনছেন? সে চমকে ঘুরে আমার দিকে কিছুক্ষণ চেয়ে রইল।

আমি বললাম — কী চান আপনি?

— আমি কিছু চাইব কেন? আপনিই তো চাইছেন।

— আমি চাইছি? আমি আবার কী চাইলাম।

— কেন? এই তো জানতে চাইলেন আমি কী চাই?

কথাটা ঠিক।

সে ধীরে ধীরে এগিয়ে এল আমার দিকে। একটু পিছু হটে এলাম গেটের ভিতরে। যদি গুণ্ডা টুণ্ডা হয়। মারতে পারে। কিন্তু সেসব কিছু করল না। কিছুক্ষণ আমার দিকে চেয়ে থেকে জিজ্ঞেস করল — আপনি কে? আমি আমার নামটা বললাম। শুনে তাড়াতাড়ি সে গিয়ে আমার নেম প্লেটখানা আবার দেখল। আপনি তো এই নেম প্লেটের নাম বলছেন।

— হ্যাঁ, তাই তো বলছি।

একটা অদ্ভুত অবিশ্বাসের হাসিতে তার মুখ ভরে গেল। তারপর বলল — ওটা তো আমি। এত মিথ্যে কথা বলেন কেন বলুন তো?

— কী মিথ্যে কথা বললাম?

— এই তো একটু আগে বললেন আপনি কিছু চান নি। এদিকে চেয়েছেন। এখন নাম ভাঁড়াচ্ছেন। বুড়ো বয়েসে লজ্জা নেই।

চটে গিয়ে আমি বললাম — মিথ্যে কথা তো আপনি বলছেন। আমার নামটা বলছেন আপনার।

লোকটা অট্টহাসি করে উঠল।

— হাঃ হাঃ হাঃ … এরপর তো বলবেন অনুপম নাগও আপনারই নাম ।

— তা কেন বলব? সে তো পাশের বাড়ির লোকের নাম?

লোকটা কেমন যেন ঘাবড়ে গেল।

— অনুপম নাগ তো আমার নাম। ঐ বাড়িতেও একই কর্ম চলছে? এতো দেখছি জোচ্চোরে ভরা একটা পাড়া। এরপর হয়তো বলবেন উলটো দিকের ভবতোষ পালও ঐ বাড়ির লোকটার নাম।

— বলবই তো। ভবতোষ বাবুকে তো চিনি। উলটো দিকের বাড়িতে থাকেন।

— কী? এত বড় আস্পর্ধা! আমি ভবতোষ পাল আপনার উলটো দিকের বাড়িতে থাকি?

লোকটা বলে চলে।

— রোজ এসে দেখি প্রত্যেকটা লোক বাড়িতে আমার নেম প্লেট লাগিয়ে রেখেছে। কেউ বাদ যায় নি। এতদিন কিছু বলি নি। এবার …

ওর কথা শেষ হওয়ার আগেই আমি বললাম — এবার কী?

— ব্যবস্থা নেব, ব্যবস্থা …

— কীসের আবার ব্যবস্থা নেবেন?

লোকটা কোনও জবাব দিল না। আমিই আবার বললাম।

— আচ্ছা, আপনি কে বলুন তো?

শুনে লোকটা প্যান্টের পকেটে হাত ঢুকিয়ে কি যেন তন্ন তন্ন করে খুঁজল। কিছু না পেয়ে আমার দিকে ফিরে তাকাল।

— পেলাম না।

— কী পেলেন না?

— কী আবার? আমাকে। আপনি এত কিছু চান কেন বলুন তো?

— কোথায় থাকেন?

অগ্নিদৃষ্টিতে কিছুক্ষণ আমার দিকে চেয়ে বলল — থাকি না।

— এভাবে বিরক্ত করছেন কেন ভোর বেলাতে? এখন কটা বাজে জানেন?

— জানি।

— কটা বাজে?

— বাজে না।

তারপর লোকটা হন হন করে হেঁটে চলে গেল। হয়তো কাল আবার আসবে।

খটকা

ভবা দাস জেগে থাকে সারা রাত খটকায়
কেন প্রেম বার বার ঘাড় তার মটকায়?
মটকায় বৈশাখি রোদ্দুরে,
মটকায় মাঘে শীতে ঘুরে ঘুরে,
মটকায় আষাঢ়ের বরষণ ঝটকায়!
সারা রাত ভোগে রোজ ভবা দাস খটকায়! 

আত্মজিজ্ঞাসা

সুধাকর ঢালি
কেঁদে কেটে কালই
বলে গেল আমি ওরে,
সত্যিই আমি তো রে?
কেঁদে কেটে হাউ হাউ সুধাকর ঢালি।

প্রেমের ছড়া

http://nerhanerhi.wordpress.com/

খড়কুটো

https://kharkuto.wordpress.com/

গবরমেন্ট – ফোনুগল্প (অণুগল্প ৯)


-হ্যালো, মহাদেব বলছি…
-সে কী? কেন?
-কেন মানে? আরে আমি মহাদেব বলছি …
-আরে আমিও তাই তো জানতে চাইছি, কেন বলছেন?
-এ তো অদ্ভুত কথা। আমি মহাদেব আপনাকে কেন ফোন করছি আপনার চেয়ে ভাল কে জানে?
-বলতে পারব না, এর আগে তো ফোন করেন নি …
-ইয়ার্কি মারছেন? মহাদেব আগে আপনাকে ফোন করে নি?
-না কোনোদিনও করে নি। মহাদেব কাউকে ফোন করে বলে জানতামও না …
-মশকরা হচ্ছে? আপনি সাত দিন সময় চেয়েছিলেন, …
লাইনটা কেটে গেল, যেমন কথার মাঝখানে লাইন কেটে যাওয়ার কড়া নিয়ম আছে।
তারপর আবার ক্রিং ক্রিং ক্রিং। না ধরলেও পারতাম, কিন্তু বদভ্যাস বশত ধরলাম।
-হ্যালো … মহাদেব বলছি।
-জানি।
-বলছিলাম আপনি সাত দিন সময় চেয়েছিলেন, আমি দিয়েছি। এবার যদি ঝামেলা করেন তবে অন্য রাস্তা ধরতে হবে।
-কীসের সময় চেয়েছিলাম? আপনি তো বিপদে ফেললেন দেখছি…
-আরে আমি আপনাকে বিপদে ফেললাম না আপনি আমাকে বিপদে ফেললেন … কালকে আমার মেয়ের বিয়ে, এখন কোথায় যাব?
-আপনার মেয়ের বিয়ে? আপনার মেয়ের বিয়ে নিয়ে আমি ঝামেলা করব কেন বলুন তো? আমার বয়েস ছিয়াশি। আশ্চর্য ব্যাপার তো!
-অ্যাডভান্স পর্যন্ত দিয়ে রেখেছি আর এখন বলে কীনা মহাদেব কে?
বাপ রে! মহাদেব অ্যাডভান্স দিচ্ছে। ভাগ্যবান লোক আমি।
-অ্যাডভান্স??? কেন অ্যাডভান্স দিয়েছেন? আমিই বা নেব কেন? আমি কি সাপ্লায়ার নাকি?
-সাপ্লায়ারই তো।
-কীসের সাপ্লায়ার মশাই? আমি কখনও সাপ্লাই টাপ্লাই দিই নি। কী যে সব বলেন।
-আরে চারশ লোক খাবে। আপনি পান্তুয়া আর বোঁদে সাপ্লাই দেবেন বলে অ্যাডভান্স নিয়েছেন। এখন টাকা মারবার তাল কষছেন?
-পান্তুয়া!!! বোঁদে!!!!! চারশ লোকের জন্য পান্তুয়া আর বোঁদে? আমি?
-হ্যাঁ আপনি। সীতারাম মিষ্টান্ন ভাণ্ডার। আবার কে?
-কিন্তু আমি তো সীতারাম ভাণ্ডার নই।
-আরে আপনি সীতারাম হবেন কেন? সে তো আপনার বাবা। আপনি শিবরাম না কী যেন একটা। ও হ্যাঁ মনে পড়েছে … কেনারাম নস্কর। ৯৯৫৫৫ ৬৬৮৮৮। এটাই তো আপনার নম্বর।
-না।
-না? না মানে?
-না মানে না। আমার নম্বর ৯৯৫৫৫ ৮৮৬৬৬।
একটু চুপ। তারপর …
-তাই নাকি? এয়ারটেল তো?
-সেরকমই তো শুনেছি।
-আগে বলবেন তো? মিছিমিছি সময় নষ্ট করছেন কেন আমার? ফালতু পার্টি কোথাকার!
-আজ্ঞে আপনি তো পান্তুয়া আর বোঁদে চাইছিলেন, নম্বর তো চান নি।
-দূর, গাধার বাচ্চা!
একবার সীতারামের বাচ্চা বলে, একবার বলে গাধার বাচ্চা।
-সময় নষ্ট করে দিল। উজবুক কোথাকার। ডেকরেটরটারটাও আসেনি। যত দিন যাচ্ছে লোকজনের বুদ্ধিসুদ্ধি লোপ পাচ্ছে। হবে না – যা গবরমেন্ট! যতোস্‌সব। ধ্যাত্তেরি!
লাইন কেটে গেল।

***
***

বোশেখি নৃত্য

কেউ করে ফিসফিস
ভোট দিস ভোট দিস
কেউ করে ফিসফাস
কিছুই করবিনাশ।
কেউ বলে ফাঁসাব
কেউ বলে হাঁচাব
কেউ বলে জনে জনে
নির্বাচনাচাব।
নির্বাচনাচাতে
বুথপাতে মাচাতে
ফন্দ পেতেছে নানা
দেশটাকে বাঁচাতে।

***
***

বাতাসপুর

new new bataspur

            বাতাসপুরে যায় না বাতাস পাওয়া
            বাতাসপুরের হয়েছে বাতাস হাওয়া 
            হয়তো বাতাস হাওয়ায় চড়ে উড়ে 
            বাতাসপুরেই লুকিয়ে মরে ঘুরে।।


দুশ্চিন্তা

ঢং ঢং ঢং ঢং বারোটা —
যদি না আমারই বাজে,
কার ওটা?

***
***

ইশ্‌ক্‌


সেজে গুজে যদি তুমি আস
মৃদু মৃদু হাসি তুমি হাস
লাগে বেশ — তবে আলু থালু
থাকলেও তুমি — বাসি ভালু।

***
***