Category Archives: Bengali Compositions

বুড়োটা


বুড়োটার মরা ছাড়া নেই আর কোনও কাজ
মনে হয় এরকমই সকলের আন্দাজ
কিন্তু সে আন্দাজে সত্যের নেই ঠাঁই
মরছে কী মরছে না জানে একা বুড়োটাই।

মেম মেঘ


বরষা, বরষা, বরষা!
দিচ্ছ না কেন ভরসা?
কালো মেঘগুলো
গিয়ে কোন চুলো
হল মেম সেজে ফরসা?

রমা সেন-২


ব্যাঘ্র পৃষ্ঠে মিঠা হাসিয়া
গিয়াছিল রমা সেন রাশিয়া
উদরে তাহারে পুরি
ফিরিয়া আসিল ঘুরি
একাকী ব্যাঘ্র মৃদু হাসিয়া।

রমা সেন-১


ব্য়াঘ্র পৃষ্ঠে চাপি হাসিয়া
গিয়াছিল রমা সেন রাশিয়া
ফিরিল ওষ্ঠ চাটি
ব্যাঘ্র বৈদ্যবাটি
রমারে উদরে পুরি হাসিয়া।

পাদরি

পাদরি।
***
দাদরিবাসী এক সে ছিল পাদরি
নজরে তার পড়ল হঠাৎ মাদ্রী
সে সুন্দরীদের রাণী
তাই আলখাল্লা টানি
দাদরি ছাড়া মাদ্রী করে পাদরি।

কুনিমোতো সাওরি


সাওরি, তোমারে সাওরি
সাকুরা বিছানো
কিয়োতোর পথে
দেখেছি ঠাওরি ঠাওরি।

হায় কুনিমোতো সাওরি
কিমোনো পরনে
ত্বরিত চরণে
জাগিয়েছ হৃদে সাওরই।

সাওরি, আহা গো সাওরি
তোমার ও নয়ন
কয়েছে কত কী
মম চিত্তেরে আহরি।

সাওরি, সাওরি, সাওরি
দেখেছি বিজনে
সাকুরার বনে
তোমারে কত না ঠাওরি।

পিয়ানো


টুং টাং ঠুং ঠাং টুং টাং ঠুং ঠাং — পিয়ানো!
রিমঝিম রিমঝিম রিমিঝিমি রিমিঝিমি — পিয়ানো!
টলমল টলমল জোয়ারের ভরা জল — পিয়ানো!
ঝিলমিল ঝিলিমিলি হাসিটি তোমার — সেও পিয়ানো!

লোকটা (অণুগল্প ১০)

লোকটা গড়গড় করে আমার নেম প্লেটটা পড়ছিল। বেশ উঁচু গলায়।  নাম, আমার পেশার খবর, ঠিকানা। পড়া হয়ে গেলে একটু দাঁড়িয়ে রইল। তারপর হাঁটতে হাঁটতে পাশের বাড়িতে গিয়ে আবার নেম প্লেটের সামনে দাঁড়াল। আমিও রাস্তায় নেমে এসে  তাকে দেখতে লাগলাম। শুনতে পেলাম সেখানেও নেম প্লেট পড়ছে। অনুপম নাগ। বিএ এ, বি এল, অ্যাডভোকেট, কলকাতা হাই কোর্ট। ৩৪/১ এগডালিয়া রোড। আবার বেশ জোরে জোরে। এত ভোরে আমার মত অনুপম বাবুরও কি ঘুম ভাঙাল?

আমিই কথা বললাম। এই যে, শুনছেন? সে চমকে ঘুরে আমার দিকে কিছুক্ষণ চেয়ে রইল।

আমি বললাম — কী চান আপনি?

— আমি কিছু চাইব কেন? আপনিই তো চাইছেন।

— আমি চাইছি? আমি আবার কী চাইলাম।

— কেন? এই তো জানতে চাইলেন আমি কী চাই?

কথাটা ঠিক।

সে ধীরে ধীরে এগিয়ে এল আমার দিকে। একটু পিছু হটে এলাম গেটের ভিতরে। যদি গুণ্ডা টুণ্ডা হয়। মারতে পারে। কিন্তু সেসব কিছু করল না। কিছুক্ষণ আমার দিকে চেয়ে থেকে জিজ্ঞেস করল — আপনি কে? আমি আমার নামটা বললাম। শুনে তাড়াতাড়ি সে গিয়ে আমার নেম প্লেটখানা আবার দেখল। আপনি তো এই নেম প্লেটের নাম বলছেন।

— হ্যাঁ, তাই তো বলছি।

একটা অদ্ভুত অবিশ্বাসের হাসিতে তার মুখ ভরে গেল। তারপর বলল — ওটা তো আমি। এত মিথ্যে কথা বলেন কেন বলুন তো?

— কী মিথ্যে কথা বললাম?

— এই তো একটু আগে বললেন আপনি কিছু চান নি। এদিকে চেয়েছেন। এখন নাম ভাঁড়াচ্ছেন। বুড়ো বয়েসে লজ্জা নেই।

চটে গিয়ে আমি বললাম — মিথ্যে কথা তো আপনি বলছেন। আমার নামটা বলছেন আপনার।

লোকটা অট্টহাসি করে উঠল।

— হাঃ হাঃ হাঃ … এরপর তো বলবেন অনুপম নাগও আপনারই নাম ।

— তা কেন বলব? সে তো পাশের বাড়ির লোকের নাম?

লোকটা কেমন যেন ঘাবড়ে গেল।

— অনুপম নাগ তো আমার নাম। ঐ বাড়িতেও একই কর্ম চলছে? এতো দেখছি জোচ্চোরে ভরা একটা পাড়া। এরপর হয়তো বলবেন উলটো দিকের ভবতোষ পালও ঐ বাড়ির লোকটার নাম।

— বলবই তো। ভবতোষ বাবুকে তো চিনি। উলটো দিকের বাড়িতে থাকেন।

— কী? এত বড় আস্পর্ধা! আমি ভবতোষ পাল আপনার উলটো দিকের বাড়িতে থাকি?

লোকটা বলে চলে।

— রোজ এসে দেখি প্রত্যেকটা লোক বাড়িতে আমার নেম প্লেট লাগিয়ে রেখেছে। কেউ বাদ যায় নি। এতদিন কিছু বলি নি। এবার …

ওর কথা শেষ হওয়ার আগেই আমি বললাম — এবার কী?

— ব্যবস্থা নেব, ব্যবস্থা …

— কীসের আবার ব্যবস্থা নেবেন?

লোকটা কোনও জবাব দিল না। আমিই আবার বললাম।

— আচ্ছা, আপনি কে বলুন তো?

শুনে লোকটা প্যান্টের পকেটে হাত ঢুকিয়ে কি যেন তন্ন তন্ন করে খুঁজল। কিছু না পেয়ে আমার দিকে ফিরে তাকাল।

— পেলাম না।

— কী পেলেন না?

— কী আবার? আমাকে। আপনি এত কিছু চান কেন বলুন তো?

— কোথায় থাকেন?

অগ্নিদৃষ্টিতে কিছুক্ষণ আমার দিকে চেয়ে বলল — থাকি না।

— এভাবে বিরক্ত করছেন কেন ভোর বেলাতে? এখন কটা বাজে জানেন?

— জানি।

— কটা বাজে?

— বাজে না।

তারপর লোকটা হন হন করে হেঁটে চলে গেল। হয়তো কাল আবার আসবে।

খটকা


ভবা দাস জেগে থাকে সারা রাত খটকায়
কেন প্রেম বার বার ঘাড় তার মটকায়?
মটকায় বৈশাখি রোদ্দুরে,
মটকায় মাঘে শীতে ঘুরে ঘুরে,
মটকায় আষাঢ়ের বরষণ ঝটকায়!
সারা রাত ভোগে রোজ ভবা দাস খটকায়! 

আত্মজিজ্ঞাসা

সুধাকর ঢালি
কেঁদে কেটে কালই
বলে গেল আমি ওরে,
সত্যিই আমি তো রে?
কেঁদে কেটে হাউ হাউ সুধাকর ঢালি।