Category Archives: Bengali Compositions

হাবিজাবি — দ্বিপদী


আশি
যদিও বয়স ছুঁইছুঁই করে আশি
কাতুকুতু দিলে হিহি করে তবু হাসি।

দুর্ভাগা
শোনা গেল এ জগতে যারা বাঘা বাঘা
সকলেই বলে তারা অতি দুর্ভাগা।

অদ্ভুত
মরেও পারে নি হতে ভূত
ভুতোটা জন্মাবধি অদ্ভুত!

উপেন
উপেন বাবুর একটাই ছিল রাগে শোকে ভরা মন্তব্য
হায় কোনোদিন জানল না ওরে কেউ কোথা কার গন্তব্য!

অবৈধ — অণুগল্প

অরুণিমা — ফোন করেছিলাম সেদিন, ধরলে না … ওয়াট্‌স অ্যাপ মেসেজেরও জবাব এল না।

পলাশ – ফোন? শুনতে পাই নি তো? ওয়াট্‌স অ্যাপটাও বোধহয় কাজ করছিল না। কী জানি।

অরুণিমা — ও আধ ঘণ্টার জন্য বাড়ি থেকে বেরিয়েছিল। সেই সুযোগে ফোন করলাম … তুমি ধরলে না। আজও একটু পরেই ফিরবে।

পলাশ – আমাকে তুমি সারা জীবনে আধ ঘণ্টার বেশি সময় দিলে না। আচ্ছা উনি আমাকে এত অপছন্দ করেন কেন? আমি তো ওনার সঙ্গে শত্রুতা করি নি। করার ইচ্ছেও নেই। একেবারেই নেই। কেমন করে শত্রুতা করা যায় তাও বুঝতে পারি না।  

অরুণিমা — হ্যাঁ … জানি … কিন্তু রেগে যায়।

পলাশ – কেন? কী বলেন?

অরুণিমা — ঐইই … অচেনা পুরুষটা তোমার সঙ্গে যোগাযোগ করে কেন? লোকটার মতলব খারাপ।

পলাশ — বললেই পার … অচেনা পুরুষ না, চেনা বুড়ো … কলেজে চিনতাম।

অরুণিমা — বিশ্বাস করে না।

পলাশ — সত্যি কথাটা বলে দাও। তোমাকে লাইন দিয়েছিলাম … তুমি ভাগিয়ে দিয়েছিলে … খুশি হবেন।

অরুণিমা — রোজ আমার ফোন খুলে দেখে তোমার ফোন এসেছিল কীনা।

পলাশ — বাপরে …

অরুণিমা — হি হি হি …

পলাশ — তোমার সঙ্গে যোগাযোগ না করলেই পারতাম। মানুষ ভুল করে ফেলে … জয়ন্ত তোমার ঠিকানাটা দিল, আমিও আমার নতুন বইখানা তোমাকে পাঠিয়ে দিলাম। ফোন কিন্তু করি নি।

অরুণিমা — ওয়াট্‌স অ্যাপ তো করেছিলে। এমন কথাও বলেছিলে যে আমাকে কোনোদিন ভুলতে পার নি।

পলাশ – বলেছিলাম বটে। কথাটা সত্যি।

অরুণিমা – সত্যি কথা? আমি তো এখানেই ছিলাম। যোগাযোগ কর নি কেন?

পলাশ — সে কী? তুমি তো আমাকে ফুটিয়ে দিয়েছিলে। সারা জীবনে একদিনই কথা বলেছ সামনাসামনি। মানে পাশাপাশি। তারপর আমি কলেজের গেটে ভিখিরির মত দাঁড়িয়ে থাকতাম, আর তুমি তোমার বান্ধবী পরিবেষ্টিত হয়ে পাত্তা না দিয়ে চলে যেতে। ঐ মহিলা ব্যূহ ভেদ করে তোমার সঙ্গে কথা বলা অসম্ভব করে দিয়েছিলে।

অরুণিমা – নইলে কী করতাম? দৌড়ে গিয়ে তোমায় … যাক গিয়ে … এবার বোধহয় ফোন রাখতে হবে। ওর ফেরার সময় হয়েছে …

পলাশ — তুমি আমার দিকে ফিরেও তাকাও নি কখনও। সঙ্গত কারণেই নিশ্চয়ই। যতদিনে বিদেশ থেকে ফিরলাম, নিশ্চয়ই বিয়ে করে সংসার করছ। ছেলে মেয়েও উপহার দিয়েছ। এদিকে উনি আমি পরস্পরকে চোখেও দেখি নি। তাই রাগটা রহস্যময়।  

অরুণিমা — হয়তো তাই। অত শত বিশ্লেষণ করে না।  

পলাশ – মিছিমিছি ওনার বিরক্তির কারণ হয়ে গেলাম। আচ্ছা, তুমিই বা আমাকে ফোন কর কেন? আমাদের কি কোনো সম্পর্ক হওয়া আর সম্ভব? অবশ্য শব্দ তরঙ্গের আদান প্রদানটাও একটা সম্পর্ক হতে পারে।  

অরুণিমা – হবেও বা …  

পলাশ – আর তারপর যদি শব্দের ছোঁয়াটা অন্য কোনো ছোঁয়ায় পরিণত হয়? তাও কি সম্ভব?  তুমি থাক নৈহাটিতে, আমি উলুবেড়িয়ায়। হাতে ছোঁয়া তো কোনো ভাবেই সম্ভব না। শব্দ দিয়ে যদি তোমায় ছুঁয়ে ফেলি … হয়তো তাই ভাবেন …

অরুণিমা — কী রকম?

পলাশ — মন ছোঁয়া যায় না? তার সঙ্গে দেহের তো সম্পর্কই নেই। উনি বুদ্ধিমান লোক সন্দেহ নেই। ইংরেজিতে sensitive …

অরুণিমা – বলছ?  

পলাশ – প্রেমের জন্য দেহের চেয়ে মনের প্রয়োজন বেশি …  

অরুণিমা – তাই বোধহয় …

পলাশ – তাই বোধহয়? তার মানে তুমি কি এতকাল পরে আমায় ভালবাসতে পারবে? যখন তোমার সঙ্গে শারীরিক নৈকট্য থাকা সম্ভব ছিল, তখন কিন্তু ভালবাস নি। এখন তো কেবল মনটাই বাকি আছে।

অরুণিমা – তুমিই কি ভালবেসেছিলে? একদিন আধ ঘণ্টা কথা বলে কি ভালবাসা যায়? বললাম তো, আমি তো ছিলাম, তুমি কী করছিলে?

পলাশ – আমিও বললাম তো, তোমার তাড়া খাচ্ছিলাম …

অরুণিমা — এবার ছাড়ি …

পলাশ — আমার বয়েস আশি – তোমারও কাছাকাছি। তোমাকে দেখে চিনতেও পারব না। ওনাকে এটা বলেছ তো?

অরুণিমা — বেল বেজেছে। ছাড়লাম।

পলাশ — দাঁড়াও, দাঁড়াও — তুমি আমাকে আদৌ ফোন কর কেন? সেটা তো বলবে?

অরুণিমা – ছাড়লাম।  

ফোনটা এখন বোবা। পঞ্চাশ বছর আগের শরতের রাঙা একটা দুপুর পলাশের মনে পড়ে। ছবিটা পুরোন হল না। সে চোখ বুজে শোনে কে যেন ফিসফিস করে বলছে — শরীর? শরীর? তোমার মন নাই কুসুম?  

দুখী

শোকাতুর প্রভাকর আপ্তে
পারে নি সে কোনোদিনই মাপতে
ঔচ্চে সে ঢের
নাকি বেশি তার বেড়
কেঁদে মরে প্রভাকর আপ্তে।

Translation of a song by Rabindranath Tagore

Far away, a plaintive tune
Plays the veena of the path kissed by your feet.
This mind mine feels restlessly wayward
What it seeks I do not know alas.

Pursuing in this untamed breeze
Jasmine flavours lost in turbulence
Likewise the heart’s melancholy
So agonizing on this night of separation.

***

The original song baje karuna sure was used by Satyajit Ray in his film Teen Konya (Three Daughters). The background singer was Ruma Guha Thakurta.

যুগলবন্দি

© ছবি – অমল সান্যাল

সুয্যি সেদিন যাচ্ছে ডুবে,          চাঁদটি উঁকি মারছে পুবে,  
ফুটছে তারা ... এমনি সময়,      আসল কানে, বুজরুকি নয়,
             টিকটিকি আর আরশোলাতে বাক্যালাপ।
মুণ্ডু  মাথা নেই কোনও তার,     বাজছে কানে তবুও বেকার, 
সুর ভরা সেই অচিন বেসুর,      সকাল বিকেল রাত্রি দুপুর,
             পণ্ড করে আর যত মোর কাজকলাপ।

***

    টিকটিকি কয়, "আরশোলা রে, কোথায় আছিস ভাই?
    চল দুটিতে মাতিয়ে সভা গিটকিরি গান গাই।
    বাসায় আমার আজ ডেকেছি আত্মীয়দের ভোজ
    থাকলে গানা, জমবে খানা, হয় কি এমন রোজ?"

হুড়মুড়িয়ে গর্তে ঢুকে,              আরশোলাতে শুকনো মুখে
           বলল, "দাদা, লজ্জা দিলে বড়!
গাই কেমনে প্রাণটি খুলে,         বিস্তর কাজ রয়েছে ঝুলে,
             এমন দিনে অন্য কারেও ধর।"

    "ধরব কারে? গঙ্গাফড়িঙ্‌, উচ্চিংড়ের ছা-ও
    গাইবে বলে ভাঁওতা দিয়ে ভোর থেকে উধাও।
    তুই বাছা মোর শেষ ভরসা, দে বাড়িয়ে হাত,
    নইলে ফিরি কোন মুখে বল? থাকবে না কো জাত।"

"হায় রে দাদা, সবাই ফাঁকি         দিচ্ছে বসে, কেবল বাকি
            আমিই - তোমায় তরিয়ে দিতে ভবে?
থাক তবে কাজ রাখব আগে,       সুনাম তোমার রাগ বেরাগে,
            গর্ত থেকেই গান শুনিয়ে সবে।"

    লেজখানিতে ঢেউ তুলিয়ে, টিকটিকি সে কয়,
    "মঞ্চে বসেই গা' না কেন? কিসের এত ভয়?
    ঘুটঘুটে ঐ গর্ত ছেড়ে এক্ষুণি তুই চল,
    রোশনি ভরা ভোজবাড়িতে জমছে দলে দল।"

"সাধ করে কি গর্তে ভায়া?          আকাশ ঘিরে বাদল ছায়া,
              ভিজলে ডানা ধরবে নিউমোনিয়া -
প্রপঞ্চময় মর্ত্যপুরে,"                   আরশোলা কয় হতাস সুরে,
            “দেখবেটা কে? ভাবলে কাঁপে হিয়া!"

    "বাদল ছায়া কোথায় পেলি? নীল গগনে চাঁদ
    জোছ্‌না মেখে, রয়েছে পেতে ঘুম-তাড়ানি ফাঁদ।
    অন্ধ? না তোর পড়ল ছানি? ঠিক কী আছে তার?
    চেন্নাই চল, দেখিয়ে আনি মাদ্রাজি ডাক্তার।"

" 'চেন্নাই সে কোন চুলো গো?'       সহস্র মোর বউ, মেয়ে, পো,
          উলটে শুয়ে চিল্লাবে সব 'হায় রে হায়!'
সামাল দেবে তাদের ক্যাটা?          আরশোলাদের হরেক ল্যাঠা
          চিৎ হলে ফের উপুর করা বেজায় দায়।"

    "হেই বাবা রে! সত্যি? নাকি দিস মোরে ভড়কি?
    হাজারটা তোর লড়কা, বিবি? সুন্দরী লড়কি?
    না, না, রে ভাই, এদের ছেড়ে যাস নে কভু আর,
    আমিও নিলাম তোর গুষ্টির চৌকিদারির ভার!"

"রাম, রাম, রাম, ছি, ছি আরে!          টিকটিকিতে আরশোলারে
              পাহারা দিলে হাসবে দেশের লোক!
হাসবে মাছি, পিঁপড়ে, পোকা,           বলবে ‘দেখ দিচ্ছে ধোঁকা!
              ভূতের ব্যাটাও আওড়াতে চায় শ্লোক!' "

    "কী বললি তুই? ভূতের ব্যাটা? করছি আমি ছল?
    ধৈর্যের বাঁধ ভাঙলি এবার, চড়ল কোলেস্ট্রল।
    হৃদের রুগী, কতই ভুগি – সয় না এত আর,
    সব কটাকে আস্ত গিলে করব প্রতিকার!"

***

তারপরে ছাই কী যে হল,               থাকল কে যে, কে যে মোল?
ধাঁই-ধপাধপ্‌, ধড়মড়মড়,              শব্দ শুনে বুক ধড়ফড়,
                আসল পুলিশ ঘুরিয়ে হাতের ডাণ্ডা,
বাজল বাঁশি, ফাটল বোমা,              লড়ল উকিল মকদ্দমা,
জমল কে সব, তুলল কী রব,          তারই মাঝে আমার আজব
                 গপ্পোখানা জুড়িয়ে কখন ঠাণ্ডা!

প্রথম রচনা ২০০১।
শেষ পরিমার্জনা ২০১১।
কলকাতা।

শ্রাদ্ধ

গরফায় এসে রোজ কালীপদ আঢ্য

নিজের নিজেই তিনি করে যান শ্রাদ্ধ

তারপরে ডাক ছেড়ে

শ্রাদ্ধের ভোজ সেরে

কেঁদে কন কোথা ওরে হরিপদ আঢ্য?

লোকটা – অণুগল্প

রাস্তার মোড়ে ফুটপাতে বসেছিল। কুচকুচে কালো জামা, কুচকুচে কালো হাফ প্যান্ট। ছেঁড়াখোঁড়া। হাত পা মুখ, ঝাঁকড়া, ঝাঁকড়া চুল, দাড়ি গোঁফ। সব কুচকুচে কালো। আসলে হয়তো লোকটা ফরসাই। সতেরো বছর স্নান করে নি।

আমাকে দেখেই ফিক করে হাসল। ঝকঝকে সাদা দাঁত। চোখ দুটোও ধবধবে সাদা। বলল – এই শোন, খুব লজ্জা করছে। আমি চলেই যাচ্ছিলাম। পাগল ভেবে।

ও আবার বলল – খুব লজ্জা করছে রে।

আমি থেমে গিয়ে ওর দিকে হাঁ করে চেয়ে রইলাম মিনিট খানেক। তারপর বললাম – কেন?

ও আবার ফিক করে হেসে বলল — এই ভিক্ষে চাইতে। ভিক্ষে দিবি? আগে আমি ভিক্ষে করতাম না। সত্যি বলছি মাইরি।

বললাম – কী করতে?

লোকটা খুব গম্ভীর হয়ে কী সব ভাবল। তারপর আবার আগের মত ফিক করে হেসে বলল — সত্যি বলছি মাইরি। মনে নেই। কিচ্ছু মনে নেই। সে অনেকদিন আগের কথা। তখন মানুষ ছিলাম।

সময় নষ্ট না করে ওকে একটা দশ টাকার নোট দিয়ে আবার হাঁটা লাগালাম।

ও মহা চেঁচামেচি শুরু করল। – ওরে আশীর্বাদ নিয়ে যা, আশীর্বাদ নিয়ে যা।

চমকে পিছন ফিরে তাকালাম। দেখি ঝকঝকে সাদা দাঁতগুলো দেখিয়ে হাসছে। হাসতে হাসতে প্রায় লুটিয়ে পড়ল।

– শোন, আশীর্বাদ নিয়ে যা। তুই বড় ভাল লোক। আশীর্বাদ করছি, পরের জন্মে তুই একটা ফুল হয়ে জন্মাবি।

বললাম – সে কী? ফুল হয়ে জন্মালে তো দু-তিন দিনের বেশি বাঁচবই না।

সে বলল – সেটাই তো চাই।

চলে যাচ্ছি, সে আবার ডাকাডাকি শুরু করল।

– বেশি বাঁচতে চাস? আচ্ছা অন্য আশীর্বাদ দিচ্ছি। তুই পরের বার একটা গাছ হয়ে জন্মাবি।

বললাম – এটা একটা কথা হল! কোথায় না কোথায় দাঁড়িয়ে থাকব, আর গরুতে খেয়ে নেবে। রাখ তোমার আশীর্বাদ।

– না, না। গরুতে খাবে না। তোর চারপাশে একটা বেড়া থাকবে। গরু খাবে না।

-বেড়াটা দেবে কে? তুমি?

– দুত্তোর! আমি বেড়া দেব কেন? যার বাড়ির উঠোনে তুই জন্মাবি সেই বেড়া দেবে।

– বাবা, উঠোন, বেড়া কত কিছু। তা বাড়ির মালিকটা কে হবে শুনি।

হো হো করে হেসে উঠল সে।

– বুঝেছি রে বুঝেছি। তোর মালিক হওয়ার ইচ্ছে হয়েছে। ঠিক আছে তুই মালিক হবি। তখন তোকে গরুতে খাবে না।

– বাঃ, ভাল কথা।

– কিন্তু বাঘে খাবে।

– অ্যাঁ — বল কী? আশীর্বাদ করে আমাকে বাঘের পেটে পাঠাচ্ছ?

– তা যা বলেছিস। তুই লোক ভাল। তোকে বাঘে খাবে না।

-তাই? ঠিক জান তো?

– তোকে বাঘে খাবে না। তোকে মানুষেই খাবে। তুই লোক ভাল। তাই তোকে মানুষে খাবে। আগের জন্মে আমি যখন মানুষ ছিলাম, তখন আমাকেও খেয়েছিল।

এবার আর দাঁড়ালাম না।

বিপিন বাবুর রহস্য -অণুগল্প


“নিজস্ত্রী সলজ্জা হইবে এবং পরস্ত্রী নির্লজ্জা হইবে ইহাই রসজ্ঞজনের কাম্য।” একথা বিপিন বাবু বহুকাল আগেই জেনেছিলেন পরশুরামের ‘হনুমানের স্বপ্ন’ পড়ে। কিন্তু ‘কার্যকালে সমুৎপন্নে’ প্রায় সমস্ত পরস্ত্রীই কিষ্কিন্ধ্যার নিকটবর্তী কিচ্চট দেশের দুর্বিনীতা বানরী রাজকন্যা চিলিম্পার মত ব্যবহার করে তাঁকে বিদায় দিলেন। তিনি বুঝতে পারলেন যে পরশুরাম প্রদর্শিত কাম্য বস্তু সহজলভ্য নয়। চিলিম্পার হাতে সুগ্রীব প্রবল ভাবে নিগৃহিত হয়েছিলেন, যদিও হনুমানের সঙ্গে চিলিম্পা পেরে ওঠেন নি। বিপিন বাবু হনুমান সম তেজস্বী না হওয়ায় প্রথমটা বিশেষ কিছুই করে উঠতে পারলেন না। তবে শারীরিক বল না থাকলেও তাঁর অল্পস্বল্প বুদ্ধিবল ছিল। সেই বুদ্ধি প্রয়োগ করে এবং কিঞ্চিৎ তন্ত্র মন্ত্রের সাহায্যে বিপিন বাবু কিছুদিন পর থেকে নিজস্ত্রীকেই নির্লজ্জা পরস্ত্রীজ্ঞানে দেখতে শুরু করলেন। এই পথে চলে তিনি অভূতপূর্ব পরোঢ়া প্রেম উপভোগ করতে সক্ষম হয়েছিলেন বলে শোনা যায়। অবশ্য বিপিন বাবু স্বর্গারোহণ করার আগে নিজমুখে এই রহস্য কাহিনি বলে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন নি। এদিকে তাঁর নিজ বা মতান্তরে পরস্ত্রীও কাউকে কোনও সাক্ষাৎকার দিতে নারাজ। দুর্ভাগ্যক্রমে গবেষকরা এ ব্যাপারে নিশ্চিত কোনও সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারছেন না।

গগনবেড় — Pelican

A limerick that cannot but remind you of Ogden Nash, was apparently not written by him. It seems to have been penned by yet another American, Dixon Lanier Merritt, in 1910. There are two versions of the poem.

Version 1.
A wonderful bird is the pelican.
His bill can hold more than his belican.
He can hold in his beak
Enough food for a week,
But I’m damned if I see how the helican.

Version 2.
A funny old bird is a pelican.
His beak can hold more than his belican.
Food for a week
He can hold in his beak,
But I don’t know how the helican.

Incidentally, I searched for other poems by Merritt, but could not locate a single one other than this one.

Produced below are two of my own Bengali adaptations of the limerick.

Version 1.

পেলিক্যান
***
আজব পক্ষী বাবা পেলিক্যান
উদর চাইতে তর ঠোঁইট ক্যান
ধরে বেশি খাইদ্য?
শিবেরও অসাইধ্য
দেওন এ রহইস্যের ব্যাইখ্‌ক্যান।

Version 2.

গগনবেড় (পেলিক্যান)
***
গগনোবেড়, সে জাতে ক্রৌঞ্চ
উদর ছাপায়ে যার চৌঞ্চ
ধরে বেশি খাদ্য
বোঝে কার সাধ্য —
সে কি শুধু অলীকো প্রপৌঞ্চ ?

মেঘলা

ভাসতে ভাসতে মেঘটা হঠাৎ থমকে
দারুণ ডেকে আমায় দিল চমকে
তারপরেতে জানলা দিয়ে খানিক হাপুস চোখে
দেখল আমায় — মিছেই মনে পড়িয়ে দিল ওকে
আসল ফিরে গানগুলো তার বৃষ্টি ভেজা সুরে
মেঘের কোলে এলিয়ে যে গান হারিয়ে গেছে দূরে
মেঘটা কেবল থমকে
মিথ্যে আমায় চমকে
এমনি করে পালায় কেন অনন্তকাল দূরে?
যেখান থেকে দেখবে না কেউ একটি বারও ঘুরে?