Category Archives: Bengali Compositions

বিপিন বাবুর রহস্য -অণুগল্প


“নিজস্ত্রী সলজ্জা হইবে এবং পরস্ত্রী নির্লজ্জা হইবে ইহাই রসজ্ঞজনের কাম্য।” একথা বিপিন বাবু বহুকাল আগেই জেনেছিলেন পরশুরামের ‘হনুমানের স্বপ্ন’ পড়ে। কিন্তু ‘কার্যকালে সমুৎপন্নে’ প্রায় সমস্ত পরস্ত্রীই কিষ্কিন্ধ্যার নিকটবর্তী কিচ্চট দেশের দুর্বিনীতা বানরী রাজকন্যা চিলিম্পার মত ব্যবহার করে তাঁকে বিদায় দিলেন। তিনি বুঝতে পারলেন যে পরশুরাম প্রদর্শিত কাম্য বস্তু সহজলভ্য নয়। চিলিম্পার হাতে সুগ্রীব প্রবল ভাবে নিগৃহিত হয়েছিলেন, যদিও হনুমানের সঙ্গে চিলিম্পা পেরে ওঠেন নি। বিপিন বাবু হনুমান সম তেজস্বী না হওয়ায় প্রথমটা বিশেষ কিছুই করে উঠতে পারলেন না। তবে শারীরিক বল না থাকলেও তাঁর অল্পস্বল্প বুদ্ধিবল ছিল। সেই বুদ্ধি প্রয়োগ করে এবং কিঞ্চিৎ তন্ত্র মন্ত্রের সাহায্যে বিপিন বাবু কিছুদিন পর থেকে নিজস্ত্রীকেই নির্লজ্জা পরস্ত্রীজ্ঞানে দেখতে শুরু করলেন। এই পথে চলে তিনি অভূতপূর্ব পরোঢ়া প্রেম উপভোগ করতে সক্ষম হয়েছিলেন বলে শোনা যায়। অবশ্য বিপিন বাবু স্বর্গারোহণ করার আগে নিজমুখে এই রহস্য কাহিনি বলে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন নি। এদিকে তাঁর নিজ বা মতান্তরে পরস্ত্রীও কাউকে কোনও সাক্ষাৎকার দিতে নারাজ। দুর্ভাগ্যক্রমে গবেষকরা এ ব্যাপারে নিশ্চিত কোনও সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারছেন না।

গগনবেড় — Pelican

A limerick that cannot but remind you of Ogden Nash, was apparently not written by him. It seems to have been penned by yet another American, Dixon Lanier Merritt, in 1910. There are two versions of the poem.

Version 1.
A wonderful bird is the pelican.
His bill can hold more than his belican.
He can hold in his beak
Enough food for a week,
But I’m damned if I see how the helican.

Version 2.
A funny old bird is a pelican.
His beak can hold more than his belican.
Food for a week
He can hold in his beak,
But I don’t know how the helican.

Incidentally, I searched for other poems by Merritt, but could not locate a single one other than this one.

Produced below are two of my own Bengali adaptations of the limerick.

Version 1.

পেলিক্যান
***
আজব পক্ষী বাবা পেলিক্যান
উদর চাইতে তর ঠোঁইট ক্যান
ধরে বেশি খাইদ্য?
শিবেরও অসাইধ্য
দেওন এ রহইস্যের ব্যাইখ্‌ক্যান।

Version 2.

গগনবেড় (পেলিক্যান)
***
গগনোবেড়, সে জাতে ক্রৌঞ্চ
উদর ছাপায়ে যার চৌঞ্চ
ধরে বেশি খাদ্য
বোঝে কার সাধ্য —
সে কি শুধু অলীকো প্রপৌঞ্চ ?

মেঘলা

ভাসতে ভাসতে মেঘটা হঠাৎ থমকে
দারুণ ডেকে আমায় দিল চমকে
তারপরেতে জানলা দিয়ে খানিক হাপুস চোখে
দেখল আমায় — মিছেই মনে পড়িয়ে দিল ওকে
আসল ফিরে গানগুলো তার বৃষ্টি ভেজা সুরে
মেঘের কোলে এলিয়ে যে গান হারিয়ে গেছে দূরে
মেঘটা কেবল থমকে
মিথ্যে আমায় চমকে
এমনি করে পালায় কেন অনন্তকাল দূরে?
যেখান থেকে দেখবে না কেউ একটি বারও ঘুরে?

দুষ্টু খেয়াল


সব্বোনেশে খেয়াল 
কে জানে হায় 
চাপল মাথায়
করল আমার এ হাল?
বলল আমায় খেয়াল
সবায় দিয়ে তালাক
হয়ে যা রে তুই
হয়ে যা রে তুই
হয়ে যা রে তুই চালাক -- 
হয়ে যা রে তুই
হয়ে যা রে তুই
চালাক একটা শেয়াল!
বানিয়ে আমায় শেয়াল
বলল ডেকে খেয়াল
কখ্‌খনো আর খেটে  
চলবি না পথ হেঁটে
পারবি তবেই টপকাতে তুই
দুনিয়া ভরা দেয়াল।
সব্বোনেশে খেয়াল
পার করাল, পার করাল
যেথায় যত দেয়াল।
তারপরে একদিন
বলল খেয়াল
আর বাকি নেই 
টপকে যাওয়ার দেয়াল।
রয়েছে শুধুই গর্ত
নামটি তাহার মর্ত্য 
সেইখানেতেই অনন্তকাল 
বাস করে সব শেয়াল।
হুক্কা হুয়া রবে
একমাত্র ওদের সাথেই 
জায়গা তোরও হবে!
দুষ্টু আমার খেয়াল 
ঢুকল কেন 
এই মাথাটায় 
হায় হায় হায় 
হায় হায় হায়  
করল আমার এ হাল? 

ভগবানের জন্মদিন — অণুগল্প

ভগবান এত বুড়ো যে ভুলেই গিয়েছে কবে তার জন্মদিন। কেবল যে ভগবানকে তৈরি করেছিল তার শর্ত অনুসারে, ভগবান মরতে পারবে না। অবশ্য সে লোকটা যে কে তা ভগবান জানে না। ভগবান অনাথ, অথচ তার বিপুল ক্ষমতা।

এই ক্ষমতার জোরে ভগবান পৃথিবী বলে একটা জায়গা সৃষ্টি করল। পৃথিবী ভরিয়ে দিল হাজার হাজার জিনিসপত্রে। হেঁটে চলে বেড়ায় এমন জিনিসও ভগবান তৈরি করল। তারপর একদিন হঠাৎ মানুষ বলে এক জীব বানিয়ে ফেলল। মানুষ বানিয়ে অবধি ভগবান ভারি খুশি। কারণ একমাত্র মানুষরাই ভগবানকে দেখতে পায়। অবশ্য সব মানুষই যে এক ভাবে ভগবানকে দেখে তা নয়। পৃথিবীর নানা জায়গায় ভগবানের নানা আকৃতি। প্রকৃতিও। তবে ভগবান নিজে কোনোদিনও নিজেকে দেখেনি। ভগবান নিজেকে দেখার আয়না আবিষ্কার করতে পারে নি।

এদিকে মানুষ ভগবানকে দেখতে পায়। আর ভগবান সম্পর্কে মানুষ একটা জবর খবর রাখে। খবরটা হল ভগবান চাইলে সব কিছু করতে পারে। যত শক্ত কাজই হোক, ভগবান করতে পারে। সব সময় যে ভগবান মানুষের ইচ্ছে মত কাজকর্ম করে দেয় এমন না। অনেক মানুষ আছে যারা পরীক্ষায় ফার্স্ট হতে চায়। তারা রাতদিন ভগবানের পুজো করে, ফুল বেল পাতা দিয়ে। যাদের পয়সা কড়ি আছে তারা মন্দির বানিয়ে তার ভিতর ভগবানকে আরাম কেদারায় বসিয়ে রাখে। কিন্তু আসল সময় দেখা যায় ভগবান তাদের সেকন্ড বা থার্ড করে দেয়। কী কারণে অন্য কাউকে ফার্স্ট করে দেয় কে জানে।

অনেকে মরতে চায় না। ভগবান তাদের কথাও শোনে না। ভগবান অতি স্বার্থপর। নিজে অমর থেকে বাকি সকলকে নশ্বর বানিয়েছে। এটা যে ঘোর অবিচার তা জেনেও হাজার কোটি লোক ভগবানের কাছে আম, জাম, লিচু, দই, সন্দেশ, সুন্দরী বউ, গাড়ি,বাড়ি কেবল চেয়েই যায়।

এমন করে অনন্ত কাল কেটে গেল। ভগবানের ভাণ্ডার থেকে রোজই অজস্র কিছু জিনিসপত্র অজস্র মানুষদের দিতে হয়। সর্বক্ষণ। প্রত্যেক মুহূর্তে। যেখানেই মানুষ জেগে আছে সেখানেই ভগবানের উপস্থিত থাকা প্রয়োজন। আর পৃথিবীর সর্বত্র সব সময় কেউ কেউ না কেউ জেগে থাকে। পৃথিবী তৈরি করার সময় ভগবান এটা খেয়াল করে নি যে মানুষ যদি সর্বক্ষণ জেগে থাকে তবে ভগবানের ঘুমোবার সময় থাকে না। ঘুম পেলেও ঘুমোরার জো নেই। হাই তুলতে তুলতে মানুষদের আবদার শুনতে হয়। তারপর ভাবতে হয় কোন আবদার রাখবে, কোন আবদার রাখবে না। যাদের আবদার মেটে না তারা মাঝে মাঝে ভগবানকে গালমন্দও করে। অভিশাপ দেয়। সেটাও ভগবানকে শুনতে হয়।

গালাগাল শুনতে শুনতে একদিন ভগবান গেল ভীষণ চটে। ভাবল — আমি জন্মালাম কেন? সবাই মরে, আমি মরি না। যাচ্ছেতাই।

তারপর নানা চিন্তা করে মানুষকে জব্দ করার একটা উপায় বের করে ফেলল। ভগবান নিয়ম করল তাকে আর পুজো করা চলবে না। মন্দির, মসজিদ, গির্জা, গুরুদ্বার আরও যেখানে যেখানে পুজো করা হয় সব কিছু বন্ধ করে দিল। ভগবানের কাছে কিছু চাওয়ার কোনও পথ রইল না।

আসলে অনেকদিন ধরে ভগবান কিছু তৈরি করে নি। এবার হঠাৎ এক মারাত্মক অস্ত্র বানিয়ে ফেলল। মানুষ তার নাম দিল করোনা। করোনা মানুষকে ধরলেই চিবিয়ে খেয়ে ফেলে। আর ভগবান মরতে চাইলেও, মানুষ কিছুতেই মরতে চায় না। আবার করোনাকে মানুষ কাবুও করতে পারে না। কেবল একটা ব্যাপার বোঝা গেল। করোনার থেকে দূরে থাকতে গেলে মানুষের থেকেও দূরে থাকতে হবে। নইলে একটা মানুষকে চিবোতে চিবোতে কাছাকাছি মানুষের উপরেও লাফিয়ে পড়ে করোনা তাকে চিবোতে পারে। ভগবান এই ভাবেই করোনা তৈরি করল।

এটা দারুণ বুদ্ধির খেলা। কারণ মন্দিরগুলোতে, গির্জাগুলোতে, মসজিদগুলোতে মানুষের বেজায় ভিড়। ঠাসাঠাসি,গাদাগাদি। সকলেই ভগবানের কাছে আগে আগে আবেদনপত্র জমা দিতে মারামারি করছে। এদিকে করোনা তো ভগবান সর্বত্র ছড়িয়ে রেখেছে। ধাক্কাধাক্কি করতে গিয়ে মানুষরা একে অপরের থেকে দূরে থাকা ভুলে যায়। সঙ্গে সঙ্গে করোনা মানুষের মধ্যে ঢুকে তাদের বেঁচে থাকার রাস্তা বন্ধ করে দেয়।

শেষ অবধি মানুষ বুঝতে পারল যে বাঁচতে হলে একা একা বাঁচতে হবে। সকলে মন্দির টন্দির ছেড়ে পালাল। ঘরের ভিতর লুকিয়ে বসে ঠকঠক করে কাঁপতে লাগল। মানুষের লক্ষ কোটি চাহিদার কথা আর মনেই রইল না। সকলের মনের মধ্যে একটাই চাহিদা। ফার্স্ট হতে চাই না, নামধাম চাই না, টাকা পয়সা চাই না। শুধু বেঁচে থাকতে চাই। বেঁচে থাকার চেয়ে মধুর কিছু নেই।

ভগবানের ভাণ্ডার জিনিস দিতে দিতে প্রায় নিঃশেষ হয়ে গিয়েছিল। আর সেই ভাণ্ডারে মানুষের অমরত্ব কোনোদিনই ছিল না। তাই মানুষকে দেবার মত ভগবানের কাছে কিছুই রইল না। এবং আস্তে আস্তে কোনো না কোনো কারণে সমস্ত মানুষই মৃত্যুবরণ করল। কেউ করোনায়। কেউ অন্য রোগে, লুকিয়ে থাকা ডাক্তার বদ্যির খোঁজ না পেয়ে। কেউ অনাহারে।

শেষ মানুষটা মরে যাওয়ার পর ভগবান বড় খুশি হল। ফিক করে হেসে নিজেই নিজেকে বলল — আজ আমার জন্মদিন। হ্যাপি বার্থ-ডে টু ইউ।

সিন্দুক

কতই ছিল ভাবনা আমার
ভাবনা রাশি রাশি
সিন্দুকেতে বন্ধ করে
একলা বসে নষ্ট বাসি
জাবনা শুধু কাটি।
কোন ভাবনা ভেজাল মেশা
কোন ভাবনা খাঁটি
ভাবতে ভাবতে রোজই আমার
সকাল সন্ধ্যে মাটি।
ভাবনাগুলো চেঁচিয়ে বলে
যার ভাবনা ভাবিস
জানিস না কি
হয়ে গেছে সে
অনেক আগেই হাপিস?
তবুও আমি সকাল সন্ধ্যে
ভাবনা শুধু ভাবি।
ভাবনা ভাবি ভাবনা ভাবি
তোমার ভাবনা ভাবি
হদিস তোমার না থাকলেও
সেই ভাবনাই ভাবি।
ভাবনা ঠাসা সিন্দুকটার
সামনে বসে ভাবি
যদিও জানি কবেই সেটার
হারিয়ে গেছে চাবি।

গান

(রাগ বেহাগ, জলদ একতাল। চলন – রজনীকান্ত সেনের “কেউ নয়ন মুদে দেখে আলো/ কেউ দেখে আঁধার”)

কেউ বলে ক-রোনা চিনা

কেউ বলে কপাল

(আবার) কেউ বলে সে পাকিস্তানের

সব্বোনাশা চাল।

(কেউ বলে কপাল …)

কেউ বা বলে ছুঁসনে আমায়
কেউ বা বসে মুখোশ বানায়
কেউ চিল্লায় আন ক্লোরোকুইন
ছিঁড়ব নচেৎ ছাল।

(কেউ বলে কপাল …)

কেউ বলে সে হাঁচলে আসে
কেউ বা পালায় কাশলে পাশে
কেউ বলে তার জম্মো দিল
প্যাঙ্গোলিনের পাল।

(কেউ বলে কপাল …)

কেউ বা বলে ছাপ রে টাকা
কেউ বলে ভাই বিড়িই পাকা
কেউ জ্বলছে ক্ষিদের জ্বালায়
দিচ্ছে গালাগাল।

(কেউ বলে কপাল …)

একলা আমি ঘরের কোনে
সাবান দিয়ে আপন মনে
চলব বোধহয় হাতই ধুয়ে
হায় অনন্ত কাল।

(কেউ বলে কপাল …)

দুষ্টু বুড়ি

জানিস না কি, দুষ্টু বুড়ি

বয়েসটা তোর একশ কুড়ি?

তাই বলে কি মধ্য রাতে

স্বপ্ন আমার করবি চুরি?

দুষ্টু, দুষ্টু, দুষ্টু বুড়ি

যখন তখন স্বপ্ন চুরি

করলে আমি কেমন করে

মেঘ মুলুকে বেড়াই উড়ি?

দুষ্টু বুড়ি, দুষ্টু বুড়ি

বয়েসটা তোর একশ কুড়ি

তাই বলে কি যা খুশি তোর

ইচ্ছে হলেই করবি চুরি?

নিরো

ভাসতে ভাসতে মেঘটা হঠাৎ থমকে

আমায় দিল চমকে —

বলল সে তুই করবি কী আর বল?

আমার সাথে তার চে’ বরং নীল আকাশেই চল ।

পুড়িয়েছে তোর কপালখানা সে,

আঠারশ ঊনত্রিশে,

বাজিয়ে দোতারা পুড়িয়েছিল

যেমন নিরো রোমকে।

তাই তো বলি মেঘ হয়ে তুই

নীল আকাশেই চল —

সেখান থেকে বৃষ্টি সেজে

ফেলিস চোখের জল।

ওরা

ওরে ব্রহ্মাণ্ড

এ কী তোর কাণ্ড

জানালা একটা নেই

খাড়া তোর দেয়ালে!

ওপারেতে আছে যারা

হাসে না কী কাঁদে তারা

কিছুই দেখালি না রে

খ্যাপা তোর খেয়ালে।