Category Archives: Other Rhymes and Poems

মেঘলা

ভাসতে ভাসতে মেঘটা হঠাৎ থমকে
দারুণ ডেকে আমায় দিল চমকে
তারপরেতে জানলা দিয়ে খানিক হাপুস চোখে
দেখল আমায় — মিছেই মনে পড়িয়ে দিল ওকে
আসল ফিরে গানগুলো তার বৃষ্টি ভেজা সুরে
মেঘের কোলে এলিয়ে যে গান হারিয়ে গেছে দূরে
মেঘটা কেবল থমকে
মিথ্যে আমায় চমকে
এমনি করে পালায় কেন অনন্তকাল দূরে?
যেখান থেকে দেখবে না কেউ একটি বারও ঘুরে?

দুষ্টু খেয়াল


সব্বোনেশে খেয়াল 
কে জানে হায় 
চাপল মাথায়
করল আমার এ হাল?
বলল আমায় খেয়াল
সবায় দিয়ে তালাক
হয়ে যা রে তুই
হয়ে যা রে তুই
হয়ে যা রে তুই চালাক -- 
হয়ে যা রে তুই
হয়ে যা রে তুই
চালাক একটা শেয়াল!
বানিয়ে আমায় শেয়াল
বলল ডেকে খেয়াল
কখ্‌খনো আর খেটে  
চলবি না পথ হেঁটে
পারবি তবেই টপকাতে তুই
দুনিয়া ভরা দেয়াল।
সব্বোনেশে খেয়াল
পার করাল, পার করাল
যেথায় যত দেয়াল।
তারপরে একদিন
বলল খেয়াল
আর বাকি নেই 
টপকে যাওয়ার দেয়াল।
রয়েছে শুধুই গর্ত
নামটি তাহার মর্ত্য 
সেইখানেতেই অনন্তকাল 
বাস করে সব শেয়াল।
হুক্কা হুয়া রবে
একমাত্র ওদের সাথেই 
জায়গা তোরও হবে!
দুষ্টু আমার খেয়াল 
ঢুকল কেন 
এই মাথাটায় 
হায় হায় হায় 
হায় হায় হায়  
করল আমার এ হাল? 

গান

(রাগ বেহাগ, জলদ একতাল। চলন – রজনীকান্ত সেনের “কেউ নয়ন মুদে দেখে আলো/ কেউ দেখে আঁধার”)

কেউ বলে ক-রোনা চিনা

কেউ বলে কপাল

(আবার) কেউ বলে সে পাকিস্তানের

সব্বোনাশা চাল।

(কেউ বলে কপাল …)

কেউ বা বলে ছুঁসনে আমায়
কেউ বা বসে মুখোশ বানায়
কেউ চিল্লায় আন ক্লোরোকুইন
ছিঁড়ব নচেৎ ছাল।

(কেউ বলে কপাল …)

কেউ বলে সে হাঁচলে আসে
কেউ বা পালায় কাশলে পাশে
কেউ বলে তার জম্মো দিল
প্যাঙ্গোলিনের পাল।

(কেউ বলে কপাল …)

কেউ বা বলে ছাপ রে টাকা
কেউ বলে ভাই বিড়িই পাকা
কেউ জ্বলছে ক্ষিদের জ্বালায়
দিচ্ছে গালাগাল।

(কেউ বলে কপাল …)

একলা আমি ঘরের কোনে
সাবান দিয়ে আপন মনে
চলব বোধহয় হাতই ধুয়ে
হায় অনন্ত কাল।

(কেউ বলে কপাল …)

দুষ্টু বুড়ি

জানিস না কি, দুষ্টু বুড়ি

বয়েসটা তোর একশ কুড়ি?

তাই বলে কি মধ্য রাতে

স্বপ্ন আমার করবি চুরি?

দুষ্টু, দুষ্টু, দুষ্টু বুড়ি

যখন তখন স্বপ্ন চুরি

করলে আমি কেমন করে

মেঘ মুলুকে বেড়াই উড়ি?

দুষ্টু বুড়ি, দুষ্টু বুড়ি

বয়েসটা তোর একশ কুড়ি

তাই বলে কি যা খুশি তোর

ইচ্ছে হলেই করবি চুরি?

নিরো

ভাসতে ভাসতে মেঘটা হঠাৎ থমকে

আমায় দিল চমকে —

বলল সে তুই করবি কী আর বল?

আমার সাথে তার চে’ বরং নীল আকাশেই চল ।

পুড়িয়েছে তোর কপালখানা সে,

আঠারশ ঊনত্রিশে,

বাজিয়ে দোতারা পুড়িয়েছিল

যেমন নিরো রোমকে।

তাই তো বলি মেঘ হয়ে তুই

নীল আকাশেই চল —

সেখান থেকে বৃষ্টি সেজে

ফেলিস চোখের জল।

ওরা

ওরে ব্রহ্মাণ্ড

এ কী তোর কাণ্ড

জানালা একটা নেই

খাড়া তোর দেয়ালে!

ওপারেতে আছে যারা

হাসে না কী কাঁদে তারা

কিছুই দেখালি না রে

খ্যাপা তোর খেয়ালে।

মিনতি


করোনা গো করোনা!
এক কাজ কর না!
আমাদের ছেড়ে নিজে
মর না গো মর না!

রোজ তুমি

নরম নরম মেঘগুলো --
    আকাশটা রোজ ভোরে
    আধ জাগা আধ ঘুমের ঘোরে
    গোলাপি এক হালকা নেশায়
    সত্যি ভরা অলীক মেশায়
    তারপরে যায় পালিয়ে
    মিথ্যে আমায় জ্বালিয়ে
তোমার মতো কোন চুলো --

নিশ্চিন্তিপুর


বুদ্ধিতে ভরা মগজ
ভয়ানক তার ওজন না বয়ে —
হাবা হয়ে বাঁচা সহজ।

পর্যটন


অনেক দূরে
এলাম ঘুরে
ভাবনাপুরে …