Category Archives: Flash Fiction in Bengali and English

Very short stories.

ধুউউশ্‌’শাআআলা — ফোনুগল্প (অণুগল্প ৮)


– হ্যালো!
– হ্যালো! উচ্চগ্রামে।
– হ্যা—লো–ওওও …
– হ্যা—লো—ওওওওও …। আরও উচ্চগ্রামে।
– ধুঃ—শালা। কেটে গেল।
– ক্রিইং ক্রিইং –
– হ্যালোওওও – হ্যাঁ, এতবার তো হ্যালো হ্যালো বললাম – তুই তো শালা জবাবই দিলি না –
– জবাব দিলাম না মানে? আমি তো কতবার বললাম …
– কী বললি? – হ্যালো – হ্যালো – শুনতে পাচ্ছিস? – হ্যাঁ – কী বললি? –
– কী আবার বলব? – হ্যালো হ্যালো বললাম … তুই তো শালা চুপ করে রইলি … তারপর লাইন কেটে দিলি … হ্যালোওওও … শুনতে পাচ্ছিস? … কী বললি? … লাইন কাটিস নি? … হ্যালো হ্যালোওওও …
– ধুঃউউউশ্‌’শালা, আবার কেটে গেল …
– ক্রিইং ক্রিইং –
– হ্যালোওওও – হ্যাঁ হ্যাঁ শুনতে পাচ্ছি বেশ পরিষ্কার এবার – কী? হাবুলের ফোন নাম্বার? হ্যাঁ, আছে তো। দাঁড়া তোকে ওয়াট্’স অ্যাপ করে দিচ্ছি। কেন, ওয়াট্‌’স অ্যাপ করব না কেন? তোদের ইন্টারনেট চলছে না? এস্ এম্‌ এস্‌? কাজ করে না? ও আচ্ছা, দাঁড়া, দাঁড়া, একটু খুঁজে নিয়ে বলছি। … হ্যাঁ পেয়েছি … লিখে নে … ৯৯৪৩ … কী বললি? … আরও জোরে বলব? ঠিক আছে … ৯৯৪ … আরে এর চেয়ে জোরে বলব কী করে? গলায় চিড় ধরবে তো … কেন শুনতে পাচ্ছিস না ভাল করে? তোর কানে গণ্ডগোল হয়েছে … অ্যাঁ … বাসের আওয়াজ? … শোনা যায় না … কী? … বাসের আওয়াজ ছাড়া কিছু শোনা যায় না তোদের পাড়ায়? … ঠিক আছে … তবে নয় রাতে ফোন করব … হ্যালোওওও … ধুউউউশ্‌শালা … আবার কেটে গেল …

রাত এগারোটার পর।

– হ্যালোওও …
– হ্যাঁ বল্‌ — শুনতে পাচ্ছি …
– তাড়াতাড়ি লেখ্‌ … ৯৯ … কী বললি? শুনতে পাচ্ছিস্‌ না? আরে রাত দুপুরে এমন গলা ফাটিয়ে ফোন নম্বর বলতে হলে তো পুলিশ ধরবে … আর কত চেঁচাব? এখনও বাস যাচ্ছে নাকি? যাচ্ছে না … তাহলে তো তুই কালা বলব … কী? কী বললি? কুকুর? কুকু—র? তাড়া করেছে? করে নি? তবে? চেঁচাচ্ছে? দশটা কুকুর? রাস্তার কুকুর? তোর বাড়িতে দশটা রাস্তার কুকুর কী করছে? বাড়িতে না? রাস্তায়? কুকুররা কুকুর দেখলে খেপে যায়? সব তোর বাড়ির সামনে? কর্পোরেশনে খবর দে না, ধরে নিয়ে যাবে। কী বললি? তোকেও ধরে নিয়ে যাবে? নতুন আইন? তাহলে কী করব? ফোন রেখে দেব? কী বললি? কী বললি? … ধুউউউশ্‌’শাআআলা … লাইন কেটে গেল …

Advertisements

সবুজ শাড়ি — অণুগল্প ৭


ভদ্রমহিলা বারবার বলছেন – আমি যাব, আমি যাব।

ব্যাঙ্কে পাসবুক আপ-টু-ডেট করার মেশিনের লম্বা লাইনের পাশটিতে দাঁড়িয়ে। এক ভদ্রলোক বিরক্ত হয়ে বললেন – লাইনে দাঁড়ান। দেখছেন না লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে সবাই।

শুনেও মহিলা বললেন – আমি যাব, আমি যাব।

আমি লাইনেই দাঁড়িয়ে অনেকক্ষণ ধরে। ফলে তখন প্রায় মেশিনের ধরা ছোঁওয়ার মধ্যে এসে গিয়েছি। আমার আগের ভদ্রলোকের কাজ শেষ হয়ে যেতেই আমার পালা এল।

এদিকে আবারও সেই আমি যাব, আমি যাব।

আমি ঘুরে দাঁড়িয়ে মহিলাকে দেখলাম। বয়স্কা। জিজ্ঞেস করলাম – আপনি কি আমার আগে যেতে চাইছেন?

এক গাল হেসে উনি মাথা দুলিয়ে জানালেন তেমনটাই তাঁর ইচ্ছে।

তারপর বললেন – অনেক বয়েস তো, দাঁড়িয়ে থাকতে পারি না। কষ্ট হয়।

আমি বললাম – ঠিক আছে আপনিই আগে চলে আসুন। আমার বয়েস কিন্তু আপনার সমান বা তার চেয়েও বেশি।

অসীম আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে উনি বললেন – ধ্যুৎ! আমি অনেক বড়।

আমি আবারও বললাম – হতেই পারে না।

উনি বললেন – কেন পারে না? আমার বয়েস ৮৮।

একটু চমকে উঠলাম। ঠিকই বলেছেন। বেশ খানিকটা বড়। ওনার শাড়ির রঙটা সবুজ। তাই হয়তো ভুল করলাম। এক জ্যোতিষি বলেছিল অতদিন আমি নাকি বাঁচবই না। এইসব ভাবছি, এমন সময় মহিলা বললেন – আমি তো এইসব মেশিন দিয়ে কিছু করতেই পারি না। আপনি করে দিন। বলে পাসবুকটা আমার হাতে গুঁজে দিলেন নিশ্চিন্তে।

কী মুশকিল। কেন যে পরোপকার করতে গেলাম? সবুজ শাড়িটা যত অনর্থের মূল। ওনার পাসবুক যন্ত্রস্থ করে ধৈর্য ধরে দাঁড়িয়ে রইলাম। মেশিন নিজের মনে কী সব গজগজ করে হঠাৎ খাতাটা উগরে বের করে দিল। মহিলা আমার কর্মক্ষমতার উপর পরম বিশ্বাসে তখনও সবুজ শাড়িতে শোভা পাচ্ছেন। এদিকে আমি দেখি মেশিন লিখিত ভাবে ঘোষণা করছে – বার-কোড মিলছে না। আপ-ডেট করা সম্ভব না।

খাতাটা বের করে উলটে পালটে দেখলাম বার-কোড লাগানোই নেই।

বললাম – এ কী? বার-কোড লাগানো নেই তো। তাহলে যন্ত্র তো আপনার সঙ্গে সহযোগিতা করবে না।

সবুজ শাড়ি বললেন – তাই? বার-কোড কী? একদম অসহায় চাহনি। মনটা খারাপ লাগল। ওনার হয়ে এই কাজটা করার জন্য ছেলে মেয়ে জাতীয় কেউ নেই নিশ্চয়ই। হয়তো ছিল, মরে গিয়েছে। মানে হয়তো আমেরিকাতে থাকে। কিংবা অস্ট্রেলিয়া। কিংবা ফিনল্যান্ড।

জিজ্ঞেস করতে যাচ্ছিলাম ওনার ছেলেপুলেরা মরে গিয়েছে কীনা। করলাম না। তার বদলে আঙুল দেখিয়ে বললাম – দেখুন তো, ঐ কাউন্টারটায় বোধহয় ওরা বার-কোড লাগিয়ে দেবে। নিজের পাসবুকটাও ওনাকে দেখালাম, বার-কোড কাকে বলে চেনাবার জন্য। ওনার মৃত ছেলে মেয়েরা এই কাজটা করে যায় নি মনে হল। উনি আর কিছু বললেন না। আস্তে আস্তে কাউন্টারের খোঁজে চলে গেলেন।

একটু অপরাধ বোধ যে হল তা স্বীকার করতেই হয়। আমিও তো সঙ্গে যেতে পারতাম। কিন্তু এও ভাবলাম — কত সন্তানহারাকে বার-কোড বোঝাব?

স্বার্থপরের মত নিজের কাজটুকু করে বেরিয়ে এলাম। নিজের কাজ তো হল, কিন্তু মনটা কেবল খোঁচা মারছে। ওনার ছেলে মেয়ে তো সেই কবেই চলে গিয়েছে। হয়তো ওদের শেষ দেখেছেন ১৯ বছর আগে। এয়ারপোর্টে বাই বাই করার সময়। কেমন দেখতে তাই কি আর মনে করতে পারবেন?

কী যে করি! সারাক্ষণ কানে বাজছে — আমি যাব, আমি যাব।

পরণে সবুজ শাড়ি, বয়েস ৮৮।

লাইফ – ফোনুগল্প (অণুগল্প ৬)

— হ্যালো! নারীকণ্ঠ, বিরক্তিপূর্ণ।
— হ্যালোও। আমি, একটু ঘাবড়ে।
— আচ্ছা, আপনি কী চান ঠিক করে বলুন তো…
সকালে একবার জিলিপি খেতে ইচ্ছে করেছিল। রোজই করে। এ ছাড়া আর তো কিছু চাই নি। জিলিপির দোকান আজকাল ফোন করে? কে জানে? সুইগির যুগ।
— আজ্ঞে, আজ তো জিলিপি চাই নি।
— কী চ্যাংড়ামো করছেন!
— তা কেন করব? চাই নি, সত্যিই চাই নি। কোনো কিছুই চাই নি।
— চান নি? কিছুই চান নি? বিরক্তি থেকে উষ্মার দিকে।
— না তো … । দুশ্চিন্তায় আমি।
— তাই বুঝি? তবে রোজ এসব করছেন কেন?
মেয়ে পুলিশ না তো? ভাবনায় ঘামতে শুরু করি।
— রোজ কী করছি ম্যাডাম?
— কী করছেন? আবার জিজ্ঞেস করা হচ্ছে?
গা ছমছম করে ওঠে।
— কী, জবাব দিচ্ছেন না কেন?
মনে হল বন্দুকটা আমারই দিকে টিপ করে দাঁড়িয়ে আছে।
— কেমন করে জবাব দেব ম্যাডাম? আপনার কথা তো বুঝতেই পারছি না।
— ন্যাকা তাই না? বুঝতে পারছেন না? রোজ মেসেজ পাঠাচ্ছেন কেন? এই ওয়ান টু দিয়ে শেষ নম্বরে …
— দেখুন মেসেজ তো পাঠাই অনেক। কিন্তু ওয়ান টু নম্বরে কী পাঠালাম মনে করতে পারছি না।
ওপাশে আরও কয়েকটি নারীকণ্ঠ শোনা যাচ্ছে। ফোনের নারীকণ্ঠ অন্যদের বলছে শুনলাম।
— এই দেখ্ তো, জানতে চাইছে কী মেসেজ করেছে।
— হ্যালোওওও … আপনি রোজ মেসেজ করছেন আর বলছেন কী মেসেজ জানেন না!! আরেকটি গলা।
— আজ্ঞে তাইতো বলছি। ভয়ে গলা একটু কাঁপে।
— আপনি কোথা থেকে বলছেন? খুব রেগেছে।
— আমি কোথা থেকে আর বলব ম্যাডাম? আপনার বন্ধুই তো কোথা থেকে বলতে শুরু করলেন। আমি নাকি মেসেজ করি। কী মেসেজ একটু বোঝাবেন …?
— কী মেসেজ? একটাই তো মেসেজ। আপনি লাইফ চান …
— লাইফ চাই? তার মানে কী?
জিলিপি না তাহলে। সন্দেশ, জিলিপি, পান্তুয়া, কিছুই না? হায় হায়।
— রোজ বলছেন লাইফ চান, আর এখন বলছেন মানে জানেন না?
— দেখুন, সত্যিই জানি না। আপনি কি এল আই সি থেকে বলছেন?
— কী? রেগে আগুন, তেলে বেগুন।
— মানে লাইফ ইন্সিওরেন্স কর্পোরেশন থেকে বলছেন?
— আবার বাজে বকছেন?
— আমি লাইফ ইন্সিওরেন্সের কথা বলছি। রাত সাড়ে নটায় এল আই সি তো ফোন করে না। তাছাড়া আমার বয়েস আশি পেরিয়েছে। ও লাইফ আর ইন্সিওর করে কী লাভ? আমার গলায় এবার আত্মবিশ্বাস।
আর ওদিকে যেন একটু যেন অস্বস্তি।
— আপনি লাইফ চেয়ে চেয়ে ওয়ান টু-তে ফোন করছেন আর এখন …
— ম্যাডাম, লাইফ আমাকে চায় না। আমি আর লাইফকে চেয়ে কী করব বলুন? তবে জিলিপি এখনও দিব্যি চাই।
লাইন কেটে গেল। কোনোমতে লাইফ কাটাচ্ছি। না চেয়েই। দেখি কতদিন চলে!

***
***

পার্সোনালিটি – ফোনুগল্প (অণুগল্প ৫)

আমাকে কেউ ফোন টোন করে না। তাই আমিও করি না। কিন্তু মাসের শেষে ফোনের বিল দিই। কেন কে জানে? বিমর্ষ লাগে। মাঝে মধ্যে অবশ্য ফোন বেজে উঠে হর্ষ জাগায়। আমি উৎসাহে লাফিয়ে উঠি।

–হ্যালোওওও।

অপর দিক থেকে পুরুষ বা নারী কণ্ঠ শোনা যায়।

— কে কানাই ড্রাইভার? কাল আসবি বলে এলি না কেন?

বুঝি এ ফোন আমার নয়। তবু জবাব দিই।

–মিথ্যে কথা বলেছিলাম। তুই বরং চলে আয়।

কণ্ঠস্বর চমকে ওঠে।

–মাল খেয়েছিস নাকি বেটা? সাহস তো কম না। তুই বলছিস!

আমি ফোন রেখে দিই।

আরেক জাতীয় ফোন আসে। নারী কণ্ঠ। আজই এসেছিল। সে আর হ্যালো বলল না।

–মিস্টার দীপংকর? আমি এয়ারটেল থেকে বলছি। আপনার জন্য একটা দারুণ অফার আছে মিস্টার দীপংকর।

এই মিস্টার দীপংকর সম্বোধনটার সঙ্গে আমার পরিচয় নেই। উত্তর ভারতে অনেকে মিস্টার গুপ্তা বলতেন। তাঁরা ভাবতেন ভগবানদাসের মত আমার নাম দীপংকরদাস আর পদবী গুপ্তা। বহু বুঝিয়েও তাদের দাশগুপ্ত ব্যাপারটা বোঝাতে পারি নি। কিন্তু মিস্টার দীপংকরটা নতুন ঠেকল।

–তাই বুঝি? কী অফার, আরেকটা সিম কার্ড?

— না, না, মিস্টার দীপংকর। আপনি আমাদের অনেকদিনের কাস্টোমার, তাই আপনাকে একদম ফ্রি-তে একটা স্পেশাল অফার দেওয়া হচ্ছে।

–তাই? একটু খোলসা করে বলবেন?

–অবশ্যই বুঝিয়ে দেব মিস্টার দীপংকর। এটা থাকলে আপনাকে যে ফোন করবে সে কোনও ক্রিং ক্রিং শুনবে না।

আঁতকে উঠলাম।

–সে কী? কিছু না শুনলে তো মুশকিল হবে। অবশ্য কানাই ড্রাইভারের খোঁজ করলে অন্য কথা।
–কী বললেন মিস্টার দীপংকর? কানাই? আপনি মিস্টার কানাই?

–না না, আমি কানাই না। সে অন্য লোক।

নারী কণ্ঠে খুশি উপচে পড়ে।

–মিস্টার দীপংকর, এই অফার নিলে যিনি আপনাকে ফোন করবেন তিনি শুনবেন “হ্যালো, আমি মিস্টার দীপংকর বলছি”! আর সম্পূর্ণ বিনা মূল্যে এটা আপনি যেকোনো ভাষায় শোনাতে পারবেন। কেবল বছরে একবার মাত্র ৩০০ টাকা দিতে হবে।

বিনা মূল্যের মূল্য ৩০০ টাকা।

তবু একটু ভাবলাম। আইডিয়াটা মন্দ নয়। কানাই ড্রাইভারের হয়ে আমাকে জবাবদিহি করতে হবে না। তবে সে লোকটাকে এত শত কথা বলব কেন? জানতে চাইলাম।

–এমন হলে আমার সুবিধা কী?

–মিস্টার দীপংকর, কলারের কাছে আপনার পার্সোনালিটি দারুণ বেড়ে যাবে।

মেয়েটির গলায় উত্তেজনা।

–সে কী? আমার ফোন এই অদ্ভুত উপায়ে আমার পার্সোনালিটি বাড়িয়ে দেবে?

–হ্যাঁ মিস্টার দীপংকর, যে শুনবে সেই ইম্‌প্রেস্‌ড হবে।

–তাই নাকি? আচ্ছা আপনি নিজে একবার শুনে দেখুন তো। আমি মিস্টার দীপংকর বলছি। আপনি কি ইম্‌প্রেস্‌ড হয়ে গেলেন এটা শুনে?

–না, মানে আমি তো এয়ারটেল থেকে বলছি।

–না? আপনি না বললেন? ইম্‌প্রেস্‌ড হলেন না?

–না। মানে হ্যাঁ, মানে ঐ আর কী! আসলে আমি তো কোম্পানি থেকে বলছি।

–তাই তো জিজ্ঞেস করছি। আপনি ইম্‌প্রেস্‌ড হয়েছেন কি? এটা জানা খুব জরুরি। এয়ারটেল ছাড়া আর কেউই প্রায় আমাকে ফোন করে না। এয়ারটেল নিজেই ইম্‌প্রেস্‌ড না হলে ৩০০ টাকা দেব কেন?

–মিস্টার দীপংকর! এয়ারটেল তো কোম্পানি।

–আর আপনি? আপনি কী? মানুষ না কোম্পানি? আমি জানতে চাই আপনি আমার পার্সোনালিটির ব্যাপারে ইম্‌প্রেস্‌ড হয়েছেন না হন নি। আমি মিস্টার দীপংকর বলছি।

বেচারা মেয়েটা, দু-চারটে পার্টি ধরে দিতে পারলে কমিশন পাবে। একটু কষ্টই হল।

–দেখুন, আমি যাকে বলে বেশ পাঁচু টাইপের একটা লোক। পাঁচুর ঐ পা-টুকুতেই পার্সোনালিটির সঙ্গে মিল। আমার মনে হয় আপনিও আমারই মত একটা লোক। তবে আমার পার্সোনালিটি বিহীন জীবনের আর অল্পই বাকি আছে। আপনাকে কিন্তু এখনও অনেক বছর এয়ারটেলওয়ালাদের দুর্দান্ত সব অফার নিয়ে মিস্টার দীপংকরদের পিছনে ছুটতে হতে পারে। আপনাকে কেউ ফোন টোন করে? আমাকে করে না, আপনার মত ভুল না করলে।

ঠিক আছে – ফোনুগল্প (অনুকল্প-৪)

১২১ টিপে মানব বাবু কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে এয়ারটেলের গান শুনলেন। তারপর ওপার থেকে ভেসে এলো এক নারীকণ্ঠ। ইংরেজিতে জানাল – যদি মানব বাবু ইংরেজিই চালিয়ে যেতে চান তবে যেন ১ নং বোতাম টেপেন। বাংলার জন্য ২, হিন্দীর জন্য ৩ ইত্যাদি। প্রায় কিছু না ভেবেই মানব বাবু ২ টিপে দিলেন। তারপর আবারও কিছুক্ষণ সঙ্গীত বিরতি। শেষে নতুন একটি নারীকণ্ঠ। বিশুদ্ধ হিন্দীতে বলল – এয়ারটেলকে ফোন করার জন্য ধন্যবাদ। কী ভাবে সাহায্য করতে পারি?

মানব বাবু হিন্দীতেই জবাব দিলেন। বললেন – ম্যাডাম আমি তো বাংলা শুনতে চেয়েছিলাম। মহিলা তৎক্ষণাৎ বললেন — অতীব দুঃখিত, এখুনি আপনাকে বাংলা ধরিয়ে দিচ্ছি। তারপর আবার সংগীত মুখর বিরতি। মিনিট কয়েক পরে এক পুরুষকণ্ঠ ভেসে এল। সেই একই কথা। কেমন করে আপনাকে সাহায্য করে এয়ারটেল ধন্য হতে পারে?

মানব বাবু বললেন – দেখুন আপনারা আমাকে এক অন্য ব্যক্তির বিল পাঠিয়েছেন। এ নম্বর আমার কোনোকালে ছিল না। ৩০ হাজার টাকার বিল আমার হওয়া সম্ভব না।

পুরুষ – দয়া করে আপনার ঠিকানা ও ইমেল আই ডি জানাবেন কি?

মানববাবু – অবশ্যই। অমুক, তমুক …

পুরুষ – অনেক ধন্যবাদ। অনুগ্রহ করে একটু ধরুন। আমাদের সিস্টেম থেকে সব জেনে দিচ্ছি।

মানববাবু ধরে রইলেন। এবার প্রায় মিনিট সাত আট। পুরুষ ফিরে এলো।

পুরুষ – আপনাকে জানাতে চাইব যে … । এটুকু বলার পর পুরুষ কণ্ঠ কী বলল মানব বাবু বুঝলেন না। কেবল শেষ শব্দ দুটো বুঝলেন – ঠিক ক আছে? অতি দ্রুত গতিতে।

মানববাবু বললেন – দেখুন একটু ধীরে না বললে তো বুঝব না। বয়স হয়েছে।

পুরুষ – অবশ্যই আপনাকে সাহায্য করব। তারপর আবার সুপারসনিক গতিবেগে পুরুষ বলল – হিজিবিজিহিজিবিজিহিজিবিজিহিজিবিজি, ঠিক আছে? হিজিবিজিহিজিবিজিহিজিবিজি ঠিক আছে?

মানুববাবু বাধ্য হয়েই বললেন – না স্যর ঠিক নেই। আপনার বক্তব্যের ঐ ঠিক আছে-টুকুই বুঝেছি। বাকি কিছুই বুঝলাম না। এটাও বুঝেছি যে আপনি জানাতে চাইবেন, কিন্তু জানাতে চান কীনা পরিষ্কার হল না। একটু যদি খোলসা করে ঢিমে তালে বলেন বড় সুবিধা হয়।

পুরুষ – অবশ্যই আপনাকে সাহায্য করব। হিজিবিজিহিজিবিজিহিজিবিজি ঠিক আছে? হিজিবিজিহিজিবি ঠিক আছে?

মানববাবু ব্যাকুল কণ্ঠে বললেন – দেখুন আমি ২ টিপেছিলাম। কিন্তু আপনি তো বাংলা বলছেন না।যে ভাষা বলছেন সে তো আমি …

কথা শেষ করতে না দিয়ে পুরুষ আবার বলে উঠল – নিশ্চয়ই, আপনাকে অতি অবশ্য সাহায্য করব। হিজিবিজিহিজিবিজিহিজিবিজি ঠিক আছে?

তারপর আর মানববাবুর বক্তব্য শোনার অপেক্ষা না করে পুরুষ বলল — হিজিবিজিহিজিবিজিবিজি … এয়ারটেলকে ফোন করার জন্য অনেক ধন্যবাদ। আপনার দিনটি শুভ হোক।

ফোন কেটে গেল।

মানববাবু কাঁদ কাঁদ হয়ে বললেন – ঠিক আছে।

***
***

টা টা (অণুগল্প ৩)

সন্ধে হব হব। লোকজন কম। রাস্তাটা ক্রস করতে গিয়ে আঁতকে উঠলাম। খালি গায়ে, ছেঁড়া লুঙ্গি পরনে, এক মুখ খোঁচা খোঁচা সাদা দাড়ি ওয়ালা একটা লোক বাসের ওপাশ থেকে হুঙ্কার দিয়ে বেরিয়ে এল। দেখি থান ইট হাতে আমারই দিকে তাক করছে। জীবনে কখনও এত চমকাই নি।

– অ্যাই! কোথায় যাচ্ছিস? মাথা ফাটিয়ে দেব। এক পাও এগোবি না। লজ্জা করে না? হিন্দু না মুসলমান?

ভয়ে রাস্তা ছেড়ে ফুটপাতে ফিরে এলাম। লোকটাও পিছু পিছু এসে পাশেই দাঁড়াল। ফাঁকা রাস্তা। যেদিকেই তাকাতে যাই লোকটা মারতে আসে। – ওদিকে কোথায় যাচ্ছিস? পাকিস্তান? পুলিশ ডেকে ধরিয়ে দেব। একটা বিড়ি দে।

– বিড়ি কোথায় পাব?

লোকটা আবার থান ইটটা বাগিয়ে এল। আমি ভয়ে ভয়ে পকেট থেকে একটা দশ টাকার নোট বের করে ওকে দিলাম। -দশ টাকায় কী হবে? আরও দে শালা। আড় চোখে থান ইটটা দেখতে দেখতে একটা কুড়ি টাকার নোট দিলাম।

-ধ্যাত্তেরি। পাঁচ শ ছাড়, নইলে মাথার খুলিতে থান ইট ভরে বাড়ি ফিরবি।

– পাঁচ শ…. কোথায় পাব?

লোকটার চোখ দিয়ে আগুন ঠিকরাচ্ছে। কুড়িয়ে বাড়িয়ে তিন শ একাত্তর টাকা বেরোল। জিভে আঙুল ভিজিয়ে দু হাতে ভাল করে গুণে নিল লোকটা। থান ইটটা আমারই হাতে ধরিয়ে দিয়ে। তারপর ধমকে বলল – জামাটা খুলে দে, দেখছিস না খালি গা। যদিও থান ইটটা আমারই হাতে, তবুও কাঁপতে কাঁপতে শার্টটা খুলে ওকে দিলাম।

কিছুক্ষণ আমার দিকে ভুরু কুঁচকে তাকিয়ে থেকে বলল – ঠিক আছে, ওতেই হবে। প্যান্টটা কাল নেব।

তারপর ফিক করে হেসে বলল – ইটটা বরং রেখেই দিন স্যর। যে অবস্বায় আছেন, কাজে লাগতে পারে। নইলে প্যান্টটাও থাকবে না। চলি, টা টা।

***

***

অনুপমা – ফোনুগল্প (অণুগল্প ২)

-হ্যালো …
-হ্যাঁ, বলুন …
-স্যর আপনি তো আকোয়া গার্ডের জিনিস ব্যবহার করেন।
কণ্ঠস্বর বলছে মেয়েটার বয়স খুব বেশি হলে পঁচিশ। কেমন দেখতে কে জানে।ছিপছিপে লম্বা গড়ন? নাকি বেঁটে মোটা, গোলগাল।
-হ্যাঁ করি।
-আপনি কি অমুক তমুকগুলো ব্যবহার করছেন?
-ঠিক বুঝতে পারলাম না। আরেকবার বলবেন? কী জিনিসের কথা বলছেন? আমি আপনাদের ভ্যাক্যুওম ক্লিনার ব্যবহার করি, ওয়াটার পিউরিফায়ার ব্যবহার করি, একটা এয়ার পিউরিফায়ার না কী যেন কিনিয়েছিলেন, সেটাও ব্যবহার করতাম। এখন অনেকদিন করিনি। তাই আর তো কিছু কেনার নেই।
-না, না। ওগুলোর কথা বলছি না।
তার গলায় এবার স্পষ্ট উৎকণ্ঠা।
-আমি অন্য জিনিসের কথা বলছি।
-কী জিনিস?
-সিসি-টিভি আছে কি আপনার? একটা অ্যাপয়েন্টমেন্ট করে গিয়ে আপনাকে ডেমন্সট্রেশন দিয়ে আসতে পারি।
-না, না।
এবার উৎকণ্ঠা আমার কণ্ঠস্বরে।
-আমি সিসি-টিভি দিয়ে কাকে দেখব? আমার মিসেস্‌ টিভি সিরিয়াল দেখেন, আর আমি অন্য ঘরে বসে দুশ্চিন্তা করি। আমাদের দুজনের কেউই কাউকে দেখতে পাই না। মানে চাই না। সিসি-টিভি দিয়ে নতুন কী দেখব?
-স্যর সিকিওরিটির জন্য এগুলো কাজে লাগে। আপনি একটা দিন দিলে আমাদের ইঞ্জিনিয়র গিয়ে দেখিয়ে দেবে।
পঁচিশ বছরের মেয়েটা নিজে আসবে না। কালো ব্যাগ কাঁধে ইঞ্জিনিয়র পাঠাবে।
-ও, আপনি নিজে আসবেন না? তাহলে তো …
আর কিছু বললাম না।
-না স্যর, ইঞ্জিনিয়র যাবে। সব বুঝিয়ে দেবে। এটা রাখা খুব জরুরি। আপনি একবার ট্রাই করে দেখুন।
-আচ্ছা আপনি কেন বুঝছেন না যে আমার কাউকে দেখার নেই। আর এমন কোনও লোক নেই যে আমাকে দেখতে চায়! তবে হ্যাঁ, একটা ইঁদুর আমার বাড়িতে কদিন ধরে বাসা বেঁধেছে। হয়তো কাচ্চা বাচ্চাও হয়েছে প্রচুর। ঐ ইঁদুরটাকে কি সিসি-টিভি দিয়ে খুঁজে পাব?
-হ্যাঁ স্যর পাবেন। ইঁদুর, আরশোলা, টিকটিকি সব ধরা পড়বে।
মেয়েটির গলায় উৎসাহ উথলে পড়ছে।
-তারপর?
-কি বললেন স্যর?
-বললাম, তারপর? মানে তারপর কী করব? শোবার ঘরে বসে বসার ঘরের ইঁদুর দেখব? সিসি-টিভি দিয়ে কি ইঁদুর ধরাও যায়? নাকি ইঁদুর দেখলে আপনাদের খবর দিতে হয়?
-স্যর, আপনি একবার ডেমন্সট্রেশনটা দেখুন, তাহলেই সব পরিষ্কার হয়ে যাবে।
-না গো, এখন আমার ঐ জন্তরটার দরকার নেই। দরকার হলে জানাব।
-ও! তাহলে স্যর আমার ফোন নম্বরটা সেভ করে রাখুন। আমাকে ফোন করলে ব্যবস্থা করে দেব। আমার নাম অনুপমা।
-ঠিক আছে, যেদিন দরকার হবে, সেদিন তাই করব। কিন্তু আপনি কি তখনও এই কোম্পানিতেই কাজ করবেন? হয়তো ততদিনে কানপুরে জুতোর দোকানের সেল্‌স গার্ল হয়ে গিয়েছেন।
একটু হাসি। এইটাই শুনতে চাইছিলাম। পঁচিশ বছরের মেয়ের গলার মিষ্টি হাসি। বেঁটে মোটা হলেও, ভারি মিষ্টি।
-না স্যর, আমি এখানেই থাকব। আপনি আমাকে ফোন করলেই সব ব্যবস্থা করে দেব।
এবার আমার হতাশ হাসির পালা। এমন কত ফোন নম্বর সেভ করেছি। নম্বর থেকে যায়, অনুপমারা থাকে না। ঐ পঁচিশ বছর বয়সটা খুব ডেঞ্জারাস। কেটে পড়ে।
-ঠিক আছে। আপনার নম্বর সেভ করে রাখছি। আগে আপনাকে ফোন করব। তারপর আপনাকে না পেলে আকোয়া গার্ডকে ফোন করব।
-হ্যাঁ স্যর, থ্যাঙ্ক্যু।
ইঁদুরটা ফিক ফিক করে হাসছে তো হাসছেই।

***
***
***

হয়তো (অণুগল্প ১)

বয়স অল্পই হবে। বেশি হলে ভিড়ের মিনি বাসে চড়ে অত সহজে সিট দখল করতে পারত না। 

আমার ঠিক পাশেই। ঘুরে তাকিয়ে দেখার প্রবল ইচ্ছে। পারছিনা। সরাসরি পাশ ফিরে কোনও অচেনা মেয়ের দিকে তাকানো কি সভ্যতার কাজ? কেউ কেউ পারে। আমি পারি না। 

চোরা দৃষ্টিতে মেয়েদের দিকে চাইলে তারা কি খুশি হয়? হয়তো হয়। কে তাকাচ্ছে তার উপর নির্ভর করে বোধহয়। নিঃসন্দেহে আমি সে লোকটা নই। 

জানালার ধারে বসে আছি। সূর্য পশ্চিমে, বিকেল চারটের আভা। পশ্চিমের সূর্যের আলোতে তার মুখও নিশ্চয়ই রাঙিয়ে উঠেছে। 

সংযম হারিয়ে আড়চোখে টুক করে তাকালাম। সে উলটো দিকে চেয়ে। শুধু মাথার ঘন কাল চুলের বিনুনি দেখতে পেলাম। পরনে দামী শাড়ি। নীল আকাশে সাদা মেঘ। ঢাকাই? হবেও বা। মিনি বাসে দামী ঢাকাই শাড়ি? নিজের বুদ্ধির কথা ভেবে একটু হতাশই হলাম।   

মুখটা সামান্য এদিকে ঘোরালেই আমার প্রশ্নের উত্তর পেয়ে যেতাম। কিন্তু সে নিবিষ্ট মনে অন্য দিকে কী দেখতে মগ্ন কে জানে? 

হয়তো সুন্দরী। হয়তো চোখে মুখে বুদ্ধির ছাপ। হয়তো এর খোঁজেই কেটেছে চিরকাল। অজস্র প্রশ্ন। অচেনা মেয়ে, চেনা প্রশ্ন। 

বাস এক্সাইড মোড় পার হয়ে পৌঁছে গেল গুরুসদয় রোডে। ভিড় কমে আসছে, নতুন যাত্রী বেশি উঠছে না। এখনই দেখার সুযোগ। মনে হল সকলেই ওকে দেখছে, কেবল আমি বঞ্চিত।

এই থামান!

কর্কশ এক কণ্ঠস্বর। হাঁড়িচাঁচার মত। আমার পাশেই। স্টপেজে না থেমেই বাসটা চলে যাচ্ছিল। জোরে ব্রেক কষে থেমে গেল। আমি প্রায় হুমড়ি খেয়ে উলটে পড়ছিলাম। কণ্ঠস্বর শুনে? নাকি বাসের ব্রেকে টাল সামলাতে না পেরে? বোধহয় দুটোই। 

মেয়েটি আরও কী সব বলল কন্ডাক্টরকে। শাসনের ভঙ্গিতে। বচসা হল। 

আগে বলবেন তো!

আগেই তো বলেছিলাম, আপনারা কানে শোনেন কিছু? আবার হাঁড়িচাঁচা। আর তাকাতে অসুবিধা নেই। কিন্তু সে তখনও আমার দিকে পিছন ফিরে। 

বাস থেকে নেমে গেল। একটু চেষ্টা করলে এবার তাকে দেখতে পারতাম ঠিকই। দেখলাম না।  

হাঁড়িচাঁচাকে। 

পরনে দামী শাড়ি। হয়তো।

হয়তো সুন্দরী।     

***

***

God Almighty — Flash Fiction #17


The tiger has turned into a great nuisance. Humans are worried to no end. It started with cattle and then human beings too began to fall prey to the tigers. People brought out their sticks, their spears and their guns and killed the tiger. But then yet another tiger arrived. Finally, the humans approached God Almighty with an appeal.

“God Almighty! Do please save us from the tigers.”

God Almighty replied — “Okay.”

Soon after, the tigers showed up in the court of God Almighty with a complaint — “The humans have made our lives unbearable. We are running away from forest to forest. But the hunters are not leaving us in peace. Hey God Almighty, can’t you please find a remedy for this perilous situation?”

God Almighty replied – “Of course.”

Just then young Nerha’s mother appeared before God Almighty and prayed —“Baba, please make sure that my Nerha is blessed with a lovely young bride. Please, please dear God Almighty. I am offering you five paisa in obeisance.”

God Almighty replied – “Okay.”

Harihar Bhattacharyya addressed God Almighty on his way to court where his case was pending. “I have worshipped you all my life. My body has thinned on account of the fasts I kept. I want to give a proper lesson to my rascal of a nephew. Please do be my ally.”

God Almighty replied – “Okay.”

Sushil is preparing for an exam. He tells God Almighty everyday, “Dear God Almighty, do make sure that I pass.” Today he added — “God Almighty, if you can arrange for a scholarship for me, I will spend five rupees to distribute sweets I offer in your glory.”

God Almighty replied – “Okay.”

Haren Purakayastha desires to be the Chairman of the District Board. He approached God Almighty through an intermediary, a priest called Kali. “I need only eleven votes to win.” The priest, in lieu of a fat fee, chanted prayers in incorrect Sanskrit making God Almighty nearly lose his mind – “Votam dehi, votam dehi —”

God Almighty replied desperately – “Oh, okeigh, ohkeigh.”

The farmer raised his hands towards the sky and said — “God Almighty, give me water.”

God Almighty replied –”Okay.”

The mother of a sick child prayed to God Almighty–”Oh Lord, I have but a single child. Please don’t snatch it away.”

God Almighty replied – “Okay.”

Khenti pishi, the next door neighbour of the mother, said –”God Almighty, the slut is far too vain. She shows off new jewelry every other day and looks down on us all. You have shown endless mercy by catching hold of the child by his throat. Give the broad a proper lesson.”

God Almighty moaned – “Okay.”

The grim philosopher said – “God Almighty I wish to understand you.”

God Almighty warily responded – “Okay.”

China came up with a piercing cry – “Please save us from Japan Oh Lord.”

God Almighty replied – “Sure.”

A young man from Bengal caught hold of God Almighty– “No editor is accepting my submissions. I want to publish in ‘Prabasi’. Please tell Ramananda-babu to be kind to me.”

God Almighty replied – “I will.”

During a short break, God Almighty asked Brahma, who was sitting right next to him – “Do you have pure mustard oil at your home?”

Brahma said – “Yes, I do. But what’s the problem?”

God Almighty said – “I am in dire need of it. Can you spare some for me?”

Brahma. (Speaking hastily out of all five mouths) “I definitely can.”

Pure mustard oil arrived from Brahma’s home. Immediately, God Almighty put drops of mustard oil into his nostrils and fell into a deep slumber.

Till this day, we has not woken up from that slumber.

Translation-cum-transcreation of a classic Bengali flash fiction বিধাতা (bidhata) by Banaphool. The original version of The Neem Tree was also his creation.

 
 
 
 
 

[This a transcreation of an original story written by Banaphool. He is the same writer who had penned The Neem Tree. The present story in its original version was published by Gurudas Chattopaddhay and Sons in 1936 in a collection entitled Banaphhol-er Galpo (Banaphool’s Stories).]

Of Crows and Men — Flash Fiction #16

I am either a schizophrenic or a downright hypocrite when it comes to my attitude towards animals. At the same time that I cajole my dog-hating wife to allow me a puppy in the house, I will definitely be sorry to see Kentucky Fried Chicken pack up and leave the country.

I have nothing against birds though. The koel drives me to distraction on many a moonlit night. The kingfisher’s perfect somersault leaves me speechless. I have tarried patiently by peacocks for an opportunity to watch them dance. The magnificent curve of a flamingo’s neck fascinates me and, quite unpardonably, I adore the sight of little chicks scampering about.

Yet there are boundaries I will not cross. I do not enjoy the company of rodents, of spiders, of cockroaches, and, among birds, of crows. I detest crows. I am repulsed by their looks, their raucous caws and their untidy nests. Besides, dirty fish-bones on my balcony, along with other filth, are daily reminders of their slovenly habits.

I was more than a little surprised, therefore, by the agony I felt the other morning, to discover a group of little boys shriek with delight as they pulled at a string fastened firmly to the claws of a baby crow. It had not yet learnt to fly properly and must have crashed on the pavement during one of its training sessions. The miserable thing believed that the way to freedom lay in flapping its wings, which it did with all its might, much to the merriment of its captors. As it was dragged along the rough surface of the pavement, it parted its beak and cawed in a hoarse whisper, revealing the raw redness of a mouth unaccustomed to anything other than the infinite tenderness of a feeding mother.

It took me all the powers of persuasion to put a stop to this horror and make the boys untie the string.

Later on in the afternoon, I searched for the crow on my way out for a stroll. The local presswallah pointed it out to me as it perched precariously on a heap of rubble close to the edge of the pavement. I went near to have a closer look and check if the string was truly detached. The bird recoiled in panic and, losing its foothold, tumbled down the slope right into the middle of the street.

Just then a Maruti van whizzed past, far too close to the spot where the hapless crow had landed. I winced in fear and closed my eyes. When I opened them at last, prepared mentally to absorb a gory spectacle, I could hardly believe what I saw. The creature was wobbling back towards the pavement on a return trip to life!

I gazed at the scene and found myself wondering how soon it might pay a visit to my balcony.

And then I winced again, this time in disgust.