Category Archives: Rhymes in Bangla

Creative Bengali Literature – stories, rhymes, haiku.
Essays.

আন্’না


গৌরীর রান্'না
গৌরীও খান্'না
একবারই সখ করে
খেয়ে নিয়ে পেট ভরে
বলেছেন ওরে বাবা  আন্'না। 

 


 


কুম্ভীলক


বলেছেন ট্রাম্প, কেটে পড় বাবা তুমি,
যেদিকে দুচোখ নিয়ে যাবে সেথা যাও।
এদিকে হেথা যে ধূ ধূ করে মোদীভূমি, 
হায় মেক্সিকো, পাঁচিলেতে ঘেরা তাও!
অতএব মোরা মাঝরাতে যাই চলো, 
মৌন মুখর দুস্তর কোনও গ্রহে, 
নেই যেখানেতে শ্বাস প্রশ্বাস জলও,
হয় না বাঁচতে অলীক আশার মোহে।



 
 
 
 
 

কাকি

।।। কাকি।।।

কাঠফাটা রোদ্দুর
কণ্ঠেতে ভরপুর
কেন ডাকে কাক একা
বৃথা কা কা কা?

এসেছে কি ফিরে কাকি?
দেয় নি তাহলে ফাঁকি
তারও বুক করেছে কি 
এত খাঁ খাঁ খাঁ?

আয় কাকি, আয় কাকি
স্বপন থাকলে বাকি
ভিন গাছে বৃথা খুঁজে
পাবি না না না !

তৃষায় ব্যাকুল কাক
ডাকে, কাকি নির্বাক,
শুধালে বাসার খোঁজ 
বলে যা যা যা।

ফেভিকল

এনে দে, এনে দে, ওরে
ফোঁটা কয় ফেভিকল।
নইলে জুড়বে কিসে
ভাঙা এ হৃদয় বল?

জিবেগজা

বল তো বল তো মোরে এত তোর কেন খাঁই?
লোটাখানা যদি নিবি কম্বলও কেন চাই?
যে কোনও একটা দিয়ে দিন কি রে চলে না?
এত জেদ? মন তোর জোড়া ছাড়া টলে না?
শুধু লোটা নিয়ে তুই যা না চলে বিদেশেই
কম্বল পেতে শুয়ে আমি রই এদেশেই
আর যদি নিতান্ত কম্বলও চাই তোর
লোটাখানা রেখে যাস কাজে লেগে যাবে মোর
গরমেতে লোটা ভরে শরবত খাব ন’য়
অথবা ভেজাব মাথা গ্রীষ্মকে নেই ভয়
ভেবে দেখ সে সময় তুই সেই সাহারায়
হয়তো পোহাস রোদ কম্বল দিয়ে গায়
ভেবেছিস লোটা ভরা বালি  তুই বেচবি?
সাহারাতে বালি কেনে কে সেটা তো দেখবি?
না না তোর লোটা নিয়ে গিয়ে নেই কোনও কাজ
কম্বলও দরকার নেই মোর আন্দাজ
চাস  যদি আমি তোকে বলে দেব রাস্তা
এখানেই বসে চিবো জিবেগজা খাস্তা
কম্বল ফুটপাতে পেতে বসে দুজনে
লোটাতে সিদ্ধি গুলে খাব কুহু কুজনে
আসবে দুলিয়ে লেজ কুকুরের ছানারা
আসর জমিয়ে গা’বি দরবারি কানাড়া 
নাচব দুজনে সেই জলসায় ভূতুড়ে
হয়তো বা চলে যাব একই সাথে সুদূরে
কে জানে কোথায় রবে লোটা আর কম্বল
তুই হবি মোর আর আমি তোর সম্বল।

নিবুপিসি

বল রোজ অবেলাতে, রোদে ঘেমে নেড়া ছাতে, নিবুপিসি কেন চাখে বিলিতি বেগুন? চাঁটি মেরে তবলাতে, আহ্লাদে মাঝরাতে, নিবুপিসি কেন ভাঁজে মুলতানী ধুন? ঘনঘোর বরষাতে, ভিজে ভিজে ফুটপাতে, নিবুপিসি মাখে কেন সীতাভোগে নুন? ফিরি করে আমতাতে, মুড়ে মুড়ে রাংতাতে, নিবুপিসি কেন হেঁকে, "টাটকা উকুন"? পাড়া থেকে বেপাড়াতে, পেতল আঁটা লাঠি হাতে, নিবুপিসি কেন ছোটে মুখ করে চুন? দেখা পেলে হাজরাতে, সুরসুরি পাঁজরাতে, নিবুপিসি কেন দিয়ে হেসে হয় খুন?

 
 
 

A Bengali Limerick and Two Rhymes

Bengali compositions are best read with Internet Explorer or Firefox.

গোপীনাথ দাস -- তার বারাসতে বাস ইস্টিশানে বসে কাঁদে বারো মাস বলে ওরে হেসে হেসে পেট ফেটে মরি শেষে কেঁদে ভেসে বারাসতে গোপীনাথ দাস।     হরিপদ ভঞ্জ! ডালটনগন্‌'জো যেত রোজ নিত খোঁজ ডাক ছেড়ে, "বল কে রে -- হরিপদ ভঞ্জ?"     ভাগ্নে রে ভাগ্নে কত দুখে কাঁপে বুক ভাগ নে রে, ভাগ নে।

 
 
 
 

Four Bengali Limericks

Bengali Compositions are best read with Internet Explorer or Firefox.


কোন্নগরে এক যে ছিল বুড়ি সন্ধে হলেই কান্না দিত জুড়ি -- বল রে কেন চাঁদনি রাতে পুলিশ নাচে আমার ছাতে? কাঁদত কেবল, কোন নগরের বুড়ি --     জ্যামিতি পড়াতে গিয়ে সীতারাম সরখেল ছাত্রের মুণ্ডুটা ভেবে নিয়ে ন'রকেল অন্তত ষাটটা মারলেন গাঁট্টা মুণ্ডুটা ভেঙে হোল দুটো সেমি স'রকেল।     ওয়াল ম্যাপ ঘাড়ে করে মধুশ্রী দাস ভূগোল পড়াতে যান, বারোটায় ক্লাস। ম্যাপে ছিল আরশোলা তেড়ে এলো, যেই খোলা, মধুশ্রী এক লাফে খাইবার পাস।     শ্যামাদাস মাষ্টার অতীব নমস্য গাধা পিটে প্রত্যহ বানাতেন অশ্ব অশ্বেরা পাড়ে ডিম শ্যামাদাস হিমসিম খেয়ে দেশ ছাড়লেন, মেখে চিতা ভস্ম।

 
 

জন্মদিন

মিষ্টি নূপুর, শীতের দুপুর, শোনায় ঝরা পাতা
আবার প্রাণে, ফিরিয়ে আনে, হারানো কলকাতা
এম্ সি স্যারের, অঙ্ক ক্লাসের, কাঁটা দিয়ে ঘেরা তারে
হোঁচট খেয়ে, যাই লাফিয়ে, কলেজটার ওপারে
প্রক্সি দিল, সেইটা ছিল, বোধহয় শুক্রবার
চিত্রভানু, কিংবা কানু, হয়তো বা কহ্লার
ঘুরতে ঘুরতে, উড়তে উড়তে, বাস স্টপেজের ধারে
পৌঁছে দেখি, তুমিও একী, সেইখানেতেই আরে
রৌদ্রে নেয়ে, রয়েছ চেয়ে, ভাবনাতে বিভোর
কীসের টানে, কেই বা জানে, রহস্যময় ঘোর
খুঁজছ কাকে, তাই তোমাকে, শুধাই পিছন থেকে
চমকে ঘুরে, হাসলে সুরে, মুখটি আলোয় মেখে
নেই কোনও ভয়, তোমাকে নয়, টু-বি বাসের আশায়
দাঁড়িয়ে আছি, তাড়িয়ে মাছি, হায় কী দুর্দশায়
বুকের মাঝে, বাদ্যি বাজে, খবরখানা পেয়ে
তোমার পাশে, একলা বাসে, আর বেশি এর চেয়ে
চাইব দামী, কীই বা আমি, সাধ্য কী আমার
জুটবে কবার, ক্লাস কেটে কার, এমন উপহার
বানিয়ে বলি, আমিও চলি, ঐ দিকেতেই আজ
আছে আমারও তো, সহস্র শত, টু-বি বাসেতেই কাজ
বলতে বলতে, টলতে টলতে, হাজির টু-বি বাস
বাদুড় ঝোলে, দোদুল দোলে, ব্যাপক সর্বনাশ
এমন ভিড়ে, চ্যাপ্টা চিঁড়ে, লাভ কী বল হয়ে
ভারি অনুনয়, করি ভয়ে ভয়ে, একটু ধৈর্য সয়ে
তার চে’ গরম, কফি এ নরম, দুপুরেতে বসে খাই
চল দুজনাতে, কোনও নিরালাতে, পরে খালি বাসে যাই
না-না-না-না-না-না, নিষ্ঠুর মানা, পরপর ছটি বার
জানিয়ে ছুটলে, বাসেতে উঠলে, ভিড় ঠেলে দুর্বার
হা অদৃষ্ট, আমিও পিষ্ট, হতে ছুটি তব পিছে
হাঁপিয়ে বেকার, মাড়িয়ে পা কার, খেয়ে গালাগাল মিছে
নির্জনে তব, সঙ্গেতে রব, সে আশাতে ঢেলে জল
চেপে ধরে থাকে, তোমাকে আমাকে, হাজার যাত্রী দল
কিন্তু বিধাতা, হয়তো বা সেথা, ছিলেন দেখাতে আলো
তোমাকে এ ভিড়ে, সহজে নিবিড়ে, পাওয়ালেন তিনি ভাল
আলিঙ্গনে, তোমার সনে, যাই কোন দূরে ভেসে
সেতু বন্ধনে, দুলে আনমনে, অবাস্তবের দেশে
কাটে দিন মাস, নাহি মেটে আশ, কিন্তু তবুও এসে
ঘোর যায় কেটে, পৌঁছে স্প্ল্যানেডে, নেমে গেলে তুমি শেষে
এ কী অনাচার, করি হাহাকার, তাড়াহুড়ো কেন এত
দুটো স্টপ আর, করে দিলে পার, ময়দানে নামা যেত
জাগিয়ে চমক, লাগালে ধমক, ময়দানে যাব কেন
মেট্রো হলেতে, আজ সকলেতে, জমায়েত হবে জেন
আসবে সবাই, মা বাবা ভাই, পিসতুতো বোনটাও
যাও ময়দান, ভরিয়ে পরাণ, একাই রোদ পোহাও
জন্মদিন আজ, ছুটি সব কাজ, সিনেমা সকলে যাব
আর তারপরে, বসে অম্বরে, নান তন্দুরি খাব
ফের ভিড় ঠেলে, চমকিয়ে পিলে, সেই যে উধাও হলে
পাইনি তোমাকে, আর কোনও ফাঁকে, জীবনটা গেল চলে
শীতের দুপুর, মিষ্টি নূপুর, শোনাচ্ছে ঝরা পাতা
শুধু টু-বি বাস, অঙ্কের ক্লাস, হারিয়েছে কলকাতা।

২৪ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৪
কলকাতা ।।

গোমড়া মন

gomrah