A KALEIDOSCOPE WORLD

টা টা (অণুগল্প ৩)

সন্ধে হব হব। লোকজন কম। রাস্তাটা ক্রস করতে গিয়ে আঁতকে উঠলাম। খালি গায়ে, ছেঁড়া লুঙ্গি পরনে, এক মুখ খোঁচা খোঁচা সাদা দাড়ি ওয়ালা একটা লোক বাসের ওপাশ থেকে হুঙ্কার দিয়ে বেরিয়ে এল। দেখি থান ইট হাতে আমারই দিকে তাক করছে। জীবনে কখনও এত চমকাই নি।

– অ্যাই! কোথায় যাচ্ছিস? মাথা ফাটিয়ে দেব। এক পাও এগোবি না। লজ্জা করে না? হিন্দু না মুসলমান?

ভয়ে রাস্তা ছেড়ে ফুটপাতে ফিরে এলাম। লোকটাও পিছু পিছু এসে পাশেই দাঁড়াল। ফাঁকা রাস্তা। যেদিকেই তাকাতে যাই লোকটা মারতে আসে। – ওদিকে কোথায় যাচ্ছিস? পাকিস্তান? পুলিশ ডেকে ধরিয়ে দেব। একটা বিড়ি দে।

– বিড়ি কোথায় পাব?

লোকটা আবার থান ইটটা বাগিয়ে এল। আমি ভয়ে ভয়ে পকেট থেকে একটা দশ টাকার নোট বের করে ওকে দিলাম। -দশ টাকায় কী হবে? আরও দে শালা। আড় চোখে থান ইটটা দেখতে দেখতে একটা কুড়ি টাকার নোট দিলাম।

-ধ্যাত্তেরি। পাঁচ শ ছাড়, নইলে মাথার খুলিতে থান ইট ভরে বাড়ি ফিরবি।

– পাঁচ শ…. কোথায় পাব?

লোকটার চোখ দিয়ে আগুন ঠিকরাচ্ছে। কুড়িয়ে বাড়িয়ে তিন শ একাত্তর টাকা বেরোল। জিভে আঙুল ভিজিয়ে দু হাতে ভাল করে গুণে নিল লোকটা। থান ইটটা আমারই হাতে ধরিয়ে দিয়ে। তারপর ধমকে বলল – জামাটা খুলে দে, দেখছিস না খালি গা। যদিও থান ইটটা আমারই হাতে, তবুও কাঁপতে কাঁপতে শার্টটা খুলে ওকে দিলাম।

কিছুক্ষণ আমার দিকে ভুরু কুঁচকে তাকিয়ে থেকে বলল – ঠিক আছে, ওতেই হবে। প্যান্টটা কাল নেব।

তারপর ফিক করে হেসে বলল – ইটটা বরং রেখেই দিন স্যর। যে অবস্থায় আছেন, কাজে লাগতে পারে। নইলে প্যান্টটাও থাকবে না। চলি, টা টা।

***

***